বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেনছেন, নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে আওয়ামী লীগের ভাত নেই। তিনি বলেছেন, ২০১১ সালে সবাইকে বোকা বানিয়ে বিচার ব্যবস্থার উপর জোর খাটিয়ে খায়রুল হকের উপর জোর দিয়ে পার্লামেন্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান বাতিল করে দেন।
শুক্রবার (১৪ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে মেহনতী মানুষের পদযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা বলে নির্বাচন তাদের অধীনে হবে। তারা ভোট কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করবে। তারা ভোট দেয়াবে, তাদের মত করে সকলকে ভোট দিতে হবে। নইলে চলে যেতে হবে। ভোটারদের এখনো বলে ভোট কাকে দিবা। যদি বিএনপিকে ভোট দিতে চাও তাহলে তোমার ভোট হয়ে গেছে। ভোট কেন্দ্রে যাইতেই দেয়না।
তিনি আরো বলেন, এবার মানুষ জেগে উঠেছে। এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনা কবে যাবি। কিভাবে তাদের বিশ্বাস করব। সুবর্ণচরে একজনকে শুধু ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে অকথ্য ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এভাবে তারা অসংখ্য মা-বোনকে বেইজ্জত করেছে। আজকে শ্রমিক ভাইয়েরা বাজারে যেতে পারে না। বাজারে গেলে চাল কিনতে পারেনা, ডাল কিনতে পারেনা, মাংস কিনতে পারেনা, সবজি কিনতে পারেনা। ১০টাকা চাল দিবে বলেছে। এখন ৯০ টাকা। ঘরে ঘরে চাকরি দিবে বলেছে। কোনো চাকরি হয়নি। তাদের লোকদের কাছ থেকে তারা ২০-৩০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে চাকরি দিয়েছে।
আওয়ামী লীগকে হুশিয়ারি দিয়ে ফখরুল বলেন, আর কোনো সময় নেই, তাদের সময় শেষ। আমি পরিষ্কার ভাবে বলেছি। আবারো বলছি, ভালো ছেলের মত সুবোধ বালক-বালিকার মত পদত্যাগ করেন, সংসদ ভেঙে দেন। যদি ভালোই ভালোই শুনে পদত্যাগ করেন তাহলে ভালো। তা না হলে ফয়সালা হবে রাজপথে।
পদযাত্রায় আরো বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি,বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম প্রমূখ।
এ সময় নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ আজাদ, নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মনজুরুল আজম সুমন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান, জেলা বিএনপির সদস্য মো.গোলাম মোমিত ফয়সাল, জেলা শ্রমিকদলের সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষকদল, শ্রমিকদল, মৎসজীবীদল, তাঁতীদল ও জাসাসের উদ্যোগে এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। এ পদযাত্রায় বৃহত্তর নোয়াখালীর পাঁচটি জেলার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে।

