amadermuktokantho
চট্টগ্রামশনিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শরীয়ত ও ত্বরীকতে কুতবে আলম হযরত মাওলানা সৈয়দ মীর আহমদ মুনিরী (রহ.)

সৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাদেক মুনিরী
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৫:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শরীয়ত ও ত্বরীকতে কুতবে আলম হযরত মাওলানা সৈয়দ মীর আহমদ মুনিরী (রহ.)
আজ মহান ৩রা ফাল্গুন—রাঙ্গামাটিয়ার কুতবে আলম, হযরতুলহাজ্ব, শাহসুফি, মাওলানা সৈয়দ মীর আহমদ মুনিরী (রহ.)-এর পবিত্র ওরশ শরীফ।
পরিচয়
নাম—মীর আহমদ। উপাধি—শাহ্ মুনিরী ও মোজাদ্দেদী। প্রকাশ—শাহ্ সাহেব হুজুর। জন্ম—১৯১৬ খ্রি. পিতা—মৌলভী সৈয়দ কাজী শরীফ। মাতা—নাজমা খাতুন।
বংশ—তিনি এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও সৈয়দ পরিবারের সন্তান। তাঁর পূর্বপুরুষগণ ইরাক থেকে এদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য আগমন করেন। প্রথমে ইরাক থেকে দিল্লি, পরে দিল্লি থেকে চট্টগ্রামে আসেন। এরপর চট্টগ্রামের কাটতলী এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। তাঁর পূর্বপুরুষ আউলাদে রাসুল হযরত সৈয়দ বদিউদ্দিন (রহ.) ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর একমাত্র সন্তান হযরত মাওলানা সৈয়দ আজিম উদ্দিন (রহ.) সরকারি কাজী (বিচারক) হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ইসলাম ও ত্বরীকতের প্রচার-প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন। এ এলাকায় তাঁর বহু ভক্ত-অনুসারী সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
হযরত মাওলানা সৈয়দ আজিম উদ্দিন (রহ.)-এর সাত সন্তানের মধ্যে পঞ্চম ছিলেন মাওলানা সৈয়দ হাকীম উল্লাহ (রহ.), যিনি হাকীম উল্লাহ মিয়াজী নামে পরিচিত। তাঁর নামানুসারে বাড়ির নাম হয় “হাকীম উল্লাহ মিয়াজীর বাড়ি”। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে মৌলভী সৈয়দ কাজী শরীফের ঘরেই জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সৈয়দ মীর আহমদ মুনিরী (রহ.)।
শিক্ষা জীবন
গ্রামের ফোরকানিয়া মাদ্রাসা থেকে পবিত্র কুরআন মাজীদের শিক্ষা গ্রহণ করেন। ফটিকছড়ি সিনিয়র মাদ্রাসায় জামাতে হাশতুম পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে সীতাকুণ্ড বড় দারগারহাট মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে জামাতে পঞ্চম ও চাহারুম পর্যন্ত দুই বছর অধ্যয়ন করেন। এরপর চট্টগ্রাম দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে জামাতে ছিয়ান থেকে উলা পর্যন্ত অধ্যয়ন শেষ করেন। ১৯৪০ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে কৃতিত্বের সঙ্গে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করেন।
দ্বীনি খেদমত

শিক্ষা জীবন শেষ করেই তিনি দ্বীনি খেদমতে আত্মনিয়োগ করেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে ফটিকছড়ি জামেউল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসায় অধ্যাপনা শুরু করেন। দীর্ঘ ১৯ বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা দান করেন।
১৯৭৭ সাল থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৮ সালে ইন্তেকাল পর্যন্ত তিনি উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি মাদ্রাসার উন্নয়নে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করেন। মাদ্রাসার মসজিদ নির্মাণ, পুকুরের ঘাট সংস্কার, পশ্চিমাংশে বর্তমান দ্বিতল ভবনের দ্বিতীয় তলা নির্মাণ, মাদ্রাসার মাঠের দক্ষিণাংশের জমি ক্রয়—এসব উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। পাশাপাশি লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের আদব-আখলাক ও উত্তম চরিত্র গঠনে তিনি সর্বদা কঠোর ছিলেন।
তাঁর জীবদ্দশায় তিনি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তন্মধ্যে ১৯৬৬ সালে নিজ বাড়িতে একটি হিফজখানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৬ কানি জমি মাদ্রাসার নামে ওয়াকফ করেন। পরবর্তীতে তাঁর বড় ছেলে ও জামাতাগণ আরও ৭ কানি জমি ভক্ত-মুরিদদের থেকে প্রাপ্ত হয়ে মোট ২৩ কানি সম্পদ মাদ্রাসার জন্য ওয়াকফ করেন। এক সময়ে এ হিফজখানা ছাড়া এ অঞ্চলে তেমন কোনো হিফজখানা ছিল না। এ প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার হাফেজে কুরআন বের হয়েছেন।
বর্তমানে তাঁর দরবারে তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি ও জিম্মাদার আউলাদ, পীরে ত্বরীকত হযরতুলহাজ্ব আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ আবু জাফর মুনিরী গাউছিয়া আহমদিয়া মীর ছাহারা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন—যা তাঁর স্বপ্নের বাস্তবায়ন।

এছাড়াও তাঁর জীবদ্দশায় নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। অত্র মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হযরতুলহাজ্ব মাওলানা আবু সাঈদ তোফায়েল আহমেদ (রহ.)’র সাথে শাহ্ সাহেব কিবলা (রহ.)’র সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। তাঁর একমাত্র ছেলে হযরত মাওলানা মঈনউদ্দিন আহমদ (রহ.) ছিলেন, তার বড় জামাতা। ফলে তিনি উক্ত মাদ্রাসার মুরব্বি হিসেবে সবসময় সুপরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে উক্ত মাদ্রাসাকে এগিয়ে নিয়ে যান।
শাহ্ সাহেব কিবলা (রহ.) এঁর দ্বীনি খেদমতের প্রসার অনেক ব্যাপক! তিনি ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারীসহ অনেক স্থানে মাদ্রাসা, মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। যেমন, উত্তর ফটিকছড়ির হাসনাবাদ আহসানুল উলুম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা ও নামকরণ করেন। তিনি দোয়া করেন যেন এই মাদ্রাসা, দাখিল, আলিম ও ফাযিল মাদ্রাসাতে উন্নিত হয়। পাশাপাশি-উনার ভক্ত মুরিদানগণ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য জমি, নগদ অর্থ ও শত শত আঁরি ধান দান কালেকশন করেন। বর্তমানে মাদ্রাসাটি এমপিও ভূক্ত দাখিল মাদ্রাসাতে উন্নিত হয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সরকারী ভবণ বরাদ পেয়েছে।
পাশাপাশি, আজিমপুরে তার মুরিদ, মাওলানা সালেহ আহমদ আল মাদানী (রহ.)’র বাড়ি তিনি একটি  মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে মাওলানা আজিজুল করিম সাহেব মাদ্রাসাটি নতুনরূপে প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি- পাইন্দং রহমতিয়া মাদ্রাসা, ধুরুং কে. এম টেক মাদ্রাসা, কাঞ্চনপুরে তাঁর মুরিদ ও খলিফা, মাওলানা সোলতান আহমদ (রহ.) রুস্তুমিয়া মুনিরীয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সাথে নাজিরহাট জামেয়া মিল্লিয়া আহমদিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হযরতুলহাজ্ব আল্লামা কাজী আব্দুল হালিম আল-বাগদোদী (রহঃ) এর সাথেও শাহ্ সাহেব কিবলা (রহ) এঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। এই মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠায়ও তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেন। উল্লেখ্য যে, শাহ্ সাহেব কিবলা (রহ.) এঁর জানাতার নামাজের ইমামতিও করেন হযরতুলহাজ্ব আল্লামা কাজী আব্দুল হালিম শাহ আল-বাগদাদী (রহ.)
শাহ্ সাহেব কিবলা (রহ.) দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। যার দক্ষ পরিচালনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে অসংখ্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠান স্বগৌরভে দাড়িয়ে আছেন এবং দ্বীনের আলো ছড়াচ্ছেন।
তাঁর রেখে যাওয়া সেই আদর্শ তাঁর মুরিদ, খলিফা ও ভক্তগণ তাদের জীবনে আকড়ে ধরেছেন। তাঁর মুরিদগণের মধ্যে অনেকেই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো, উনার দরবারে ২০১৭সালে প্রতিষ্ঠা হয়। গাউছিয়া আহমদিয়া মীর ছাহারা দাখিল মাদ্রাসা, ২০০০ সালে তাঁর মেঝ জামাতা ও খলিফা, হযরতুলহাজ্ব মাওলানা শফিকুল ইসলাম মুনিরী মুনিরুল উলুম বারীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। উনার আরেক খলিফা, ধলই নিবাসী হযরতুলহাজ্ব মাওলানা মীর মাহবুবুল আলম মুনিরীর দরবারে হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, উনার মুরিদ, জনাব আলহাজ্ব আব্দুশ শাকুর, ধলই হাটহাজারীতে, গাউছিয়া আহমদিয়া মুনিরীয়া আলিম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, তাঁর মুরিদ, মাওলানা আজিজুল হক মুনিরী কিপাইতনগর মুনিরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, এছাড়াও হযরতুলগাজ্ব মাওলানা শফিকুল ইসলাম মুনিরী গোপালঘাটা নূর-উল উলুম মুনিরীয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি গোপালঘাটায় উনার নামে কয়েকটি মসজিদ, ইবাদতখানা, প্রতিষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও তাঁর দরবারে বাইতুল মামুর শাহ্ মীর মুনিরীয়া পাঠানের জামে মসজিদ রয়েছে। ১৯৪৮ কিংবা ১৯৪৯ সালের দিকে তিনি রুস্তুম খাঁ চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্য দিন উক্ত মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর বেলায়তের শক্তিবলে তার জীবদ্দশায় ও ইন্তেকালের পর অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা, খানেকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়। তিনি সারা জীবন দ্বীনের খেদমতে চলেছেন তাঁর ঐকান্তিকতার প্রচেষ্টায় হাজার হাজার পথহারা মানুষ সুপথ প্রাপ্ত হয়ে হেদায়তের আলোয় আলোকিত হন।
ত্বরীকতের অবদান
কুতবে আলম হযরত শাহ্ মাওলানা মীর আহমদ মুনিরী (রহ) এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি একজন বিজ্ঞ আলেম! যার হাতে অসংখ্য আলেম তৈরী হয়েছেন। পাশাপাশি ত্বরীকতের শিক্ষা দ্বারা অসংখ্য মানুষ আল্লাহ ওয়ালা হয়েছেন।
যিনি তাঁর বেলায়তের ক্ষমতা বলে অসংখ্য পথহারা মানুষকে হেদায়তের পথে পরিচালিত করেছেন।
যেমনি ভাবে তাঁর দ্বীনি খেদমতের প্রসার হয়েছিল ঠিক সেই ভাবে তাঁর ত্বরীকতের খেদমতও ব্যাপক ছিল। তিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে ত্বরীকতের দীক্ষা লাভ করেন। তাঁর প্রথম পীর মুফতিয়ে আজম হযরত শাহ্ আল্লামা নজির আহমদ চুনতী (রহ.) তাঁর ইন্তেকালের পর হালিশহরের সুলতানুল আউলিয়া, খাজায়ে রাঙ্গাল হাফেজ সৈয়দ মুনির উদ্দিন (রহ.) এর নিকট তাঁর দাদা৷ পীর কুতুবুল এরশাদ হযরত হাফেজ হামেদ হাসান আলভী আজমগড়ী (রহ) এঁর নির্দেশে বায়আত গ্রহণ করেন এবং খেলাফত প্রাপ্ত হন।
তিসি দিনের বেলায় মাদ্রাসায় দ্বীনি শিক্ষা দিতেন, রাতে ওয়াজ ও নসিহত এবং ত্বরীকতের অজিফা শিক্ষা দিতেন।
তিনি কঠোর রিয়াজতের মাধ্যমে মহান আল্লাহকে রাজি করেন। বিশেষ করে মাগরিব, এশার ও ফজরের নামাজের পর দীর্ঘক্ষণ মোরাকাবায় মগ্ন থাকতেন। নিয়মিত  তাহাজ্জুদ নামাজের পর জিকির করতেন। এই কঠোর ইবাদত ও রিয়াজের মাধ্যমে তিনি মহান আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করেন।
ফলে তিনি বেলায়তের উচ্চ মকাম হামিল করেন, তাঁর দরবারে এসে মানুষ হেদায়ত প্রাপ্ত হতেন, বেনামাজীকে নামাজি করতেন, আল্লাহ ওয়ালা বানাতেন। তাঁর নিকট মানুষ আসলে তিনি মানুষের অন্তরের কথাগুলো বলে দিতেন, মানুষ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার নিকট অসতেন। তিনি তাদের সেই সমস্যা গুলোর সমাধান করে দিতেন, মহান আল্লাহ তাকে বেলায়ারে সেই ক্ষামতা প্রদান করেন।
তাঁর জীবদ্দশায় এমন কিছু অলৌকিক ঘটনা আছে যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তিনি একজন উচু মকামের আল্লাহর অলি ছিলেন, তেমনি কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো,
১) হাসনাবাদের সুফী আবুল কাশেম সাহেব।
একদা শাহ সাহেব কিবলা (রহ.) এর মুরিদ মাওলানা আব্দুল করিম সাহেব সুফী আবুল কাশেমকে তাঁর পীরের নিকট যাওয়ার জন্য দাওয়াত দেন। তিনি বলেন, আমি আপনার পীরের নিকট যাব তবে আমি বারআত হব না যদি না আমার তিনটি মহৎ ইচ্ছা পূর্ণ হয়। আব্দুল করিম সাহেব তাঁর তিনটি সৎ ইচ্ছার কথা জানতে চাইলে আবুল কাশেম সাহেব বলেন, প্রথম হলো উনাকে দেখলে আমার অন্তরে আল্লাহর জিকির জারি হতে হবে। দ্বিতীয় হলো, উনাকে দেখামাত্র আমার অন্তরে আল্লাহর ভয় আসতে হবে। তৃতীয় উনাকে দেখার সাথে সাথে রাসূলে পাক (দরুদ) এর সাক্ষাৎ হতে হবে!
এই তিনটি ইচ্ছা পূর্ণ হলে আমি তাঁর নিকট বায়আত হব। যেই ভাবা সেই কাজ-আব্দুল করিম সাহেব রাজি হয়ে যান। তারা পায়ে হেটে শাহ সাহেব কিবলা কেছ) এর দরবারে পৌছান।
যেইমাত্র সূফী আবুল কাশেম সাহেব শাহ্ সাহেব হুজুর কিবলা (রহ.) কে দেখলেন, সাথে সাথেই সুফী আবুল কাশেমের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও জিকির চালু হয়, মুহুর্তে তিনি বেহুশ হয়ে পড়েন, বেহুশ থেকে হুশ হওয়ার পর বলতে লাগলেন, আমি আমার রাসুলে পাক (দরুদ) কে দেখতে পেয়েছি। তাঁর জীবদ্দশায় এমন অসংখ্য ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। যা আজও লোকমুখে শুনা যায়। তাঁর দরবারে মানুষ আসলে কোন কিছু বলার আগেই তিনি বলে দিতেন কে কোন সমস্যা নিয়ে এসেছেন।
(২) তাঁর ইন্তেকালের পথে অনেক মানুষ তাঁকে সরাসরি বিভিন্ন জায়গায় দেখেছেন। যেমন, তাঁর জানাবার কাটিয়া আনার সময়, তার চাচা মাওলানা কামাল আহমদ মাইজভান্ডারী (রহ) তাকে সরাসরি দেখতে পেয়েছের। কামাল আহমদ সাহেব বলেন, আমি শাহ্ সাহেব হুজুরকে দেখেছি, তিনি আমাকে পিছন থেকে ডাক দিয়েছেন এবং বলেছেন, চাচা আপনি ভালো থাকবেন দোয়া করবেন।
(৩) তাঁর ইন্তেকালের পরের আরেকটি ঘটনা-তার একনিষ্ট একজন মুরিদ নবির হোসেন প্রকাশ, জুনু সাও: তাঁর ইন্তেকালের চার মাস আষাঢ় মাসের ১৫ তারিখ জিয়ারত করতে আসেন। মাগরিবের অনেক পর হয়ে যাওয়ায় তিনি মাওলানা আছমত উল্লাহ সাহেবের বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছিলেন, লোক মুখে ঐদিকে জ্বীনের ভয় ছিল, তখন জুনু সাও: মনে মনে ভয় পাচ্ছিলেন, হঠাৎ তিনি শাহ্ সাহেব হুজুরকে দেখতে পান। তিনি বলেন, “নবীর হোসেন তুমি কি ভয় পাচ্ছো? চল আমি তোমাকে পৌঁছে দেয়”। তিনি বাডিতে পৌঁছে হতভাগ হলেন কিভাবে তিনি বাড়িতে পৌছে গেলেন তা তিনি বুঝতেও পারেননি।
(৪) তাঁর ইন্তেকালের পর,গোপালঘাটা নিবাসী নূর আহমদ ঠিকাদার যিনি শাহ সাহেব কিবলার বার্মা দেশের খলিফা ছিলেন। তিনি যেদিন ইন্তেকাল করবেন, সেইদিন হযরত হাদী বাদশাহ আউলিয়া (রহ.) এঁর মাজারের পাশদিয়ে শাহনগরের মানুষগণ শাহ্ সাহেব কিবলা (রহ.) কে যেতে দেখেছিলেন। সেই সাথে নূর আহমদ টিকাদার বলতে লানালেন, আমার হুজুর আসছেন তোমরা সবাই সরে যাও! সুবহানআল্লাহ্।
এভাবে ইন্তেকালের পর পবিত্র মক্কা ও মদিনা শরীফে তাওয়াফে, জিয়ারতে, নামাজে ও হেরেম শরীফে অনেকেই তাকে নিজ চোখে দেখেছেন।
এমন একটি ঘটনা আছে যে, ওমানের সালালাহ প্রদেশে হযরত আইয়ুব (আ.) এঁর মাজার শরীফে জিয়ারতের সময় কামরাঙ্গাপাড়া নিবাসী জনাব মফিজ সাহেব হযরত মীর আহমদ মুনিরী (রহঃ) কে সরাসরি দেখেছিলেন। তিনি যখন মুনাজাতরত ছিলেন, তখন দেখেছিলেন, মুহুর্তের মধ্যে তিনি অদৃশ্য হয়ে যান। সুবহানআল্লাহ্  তাঁর এক মুরিদ, আমির হোসেন মাষ্টার তার ছেলে মহিউদ্দিনের পরীক্ষার জন্য মাজার জিয়ারতে যান। বেশি রাত হয়ে যাওয়ায় তিনি কোন গাড়ি পাচ্ছেন না, তিনি হযরত মতিউর রহমান শাহ (রহ.) এর মাজারের গেইড়ের সামনে দাড়িয়ে রইলেন। হঠাৎ শাহ্ সাহেব কিবলা (রহঃ) কে দেখতে পান। তিনি বলেন, আমির হোসেন পিছনে একটা গাড়ি আসছে সেটাতে উঠে যাও রাত অনেক হয়েছে। সুবহানআল্লাহ্
মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের এমন নৈকট্য দান করেন, তাঁরা যখন কথা বলেন, তখন মহান আল্লাহর কুদরতি মুখে কথা বলেন! আর যখন তারা দেখেন তখন মহান আল্লাহর কুদরতি চোখে দেখেন! আর যখন তাঁরা হাটের তখন আল্লাহর কুদরতি পায়ে হাটেন (আল হাদিস)
অতঃপর, এমন একজন মহান আল্লাহর অলি ছিলেন, কুতবে আলম হররত মীর আহমদ মুনিরী (রহ.) যাঁর ত্বরীকতের উচ্চ মর্যাদা দ্বারা যিনি অসংখ্য মানুষকে হেদায়তের পথে পরিচালিত করেছেন এবং আজীবন শরীয়ত ও ত্বরীকতের খেদমত করেছেন।
তিনি মানুষের মর্যাদা অনুযারী কথা চলতেন। তাঁর নিকট ছোট বড় সকলেই সমান ছিলেন। তিনি মানুষকে মুহাব্বত করতেন এবং তাদের সুখে দুঃখে সমান ভাবে পাশে থাকতেন।
তাঁর বরকতময় জীবনের অংশটুকু লিখতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি- ৪৮তম ওরশ শরীফে অধমের এই ক্ষুদ্র প্রয়াম আশেকানদের ক্বলব ও কলিজা ঠাণ্ডা হবে চক্ষু শিতল হবে সেই আশাই করছি।
মহান আল্লাহ কুতবে আলম হযরত শাহ্ মাওলানা সৈয়দ মীর আহমদ মুনিরী (রহ.) এর বরকতময় জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করার এবং তাঁর ফয়জাত হাসিল করার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক-
সৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাদেক মুনিরী
সুপার, গাউছিয়া আহমদিয়া মীর ছাহারা দাখিল মাদ্রাসা,
শাহ্ সৈয়দ মীর ছাহারা মঞ্জিল, ফটিকছড়ি পৌরসভা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।