সদ্য প্রকাশিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির চূড়ান্ত ফলাফলে ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এবার মোট ৩০ জন পরীক্ষা দিয়ে চূড়ান্তভাবে ২২ জন শিক্ষার্থী আইনজীবী হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। এর মধ্যে আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২য় ব্যাচ থেকে ১৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৫ জনই আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এছাড়া ৩য় ব্যাচ থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম নতুন বিভাগের একটি হলো আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ। সময়ের হিসেবে এক দশকে পা রেখেছে এই বিভাগ। তুলনামূলক নতুন বিভাগ হওয়ায় ক্লাস ও শিক্ষকের সংকট থাকলেও একঝাঁক দক্ষ ও আন্তরিক শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মেধার স্বাক্ষর ও এই বিভাগের পরিচয় তুলে ধরছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও সদ্য এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া আবির হাসান সুজন বলেন, একজন আইনের ছাত্রের পরিচয়ের প্রধান দলিল হলো আইনজীবী সনদ এবং নিয়মিত পড়াশোনা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই এডভোকেট হওয়া সম্ভব। একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এডভোকেট রুবাইয়া ইয়াসমিন বলেন, আইন পেশা শুধু একটি পেশা নয়; এটি ন্যায়, সত্য ও মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর একটি মহান দায়িত্ব এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এছাড়া আরেক সাবেক শিক্ষার্থী এডভোকেট কামরুন্নাহার মুনমুন বলেন, দীর্ঘ এক বছরের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার ধাপ পার করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া আনন্দের হলেও পরীক্ষার ফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা পরীক্ষার্থীদের জন্য মানসিক চাপ তৈরি করে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, “প্রিলি তুলনামূলক সহজ হলেও লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ছিল ট্রিকি এবং মানসম্মত।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইন অনুষদের ডিন ও আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. খ্রীষ্টিন রিচার্ডসন বলেন, “তুলনামূলক নতুন বিভাগ হলেও এখানে একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থীরা রয়েছেন যারা ইতোমধ্যে মেধার স্বাক্ষর রেখেই এই বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।” এছাড়া তারা দেশের আইন, বিচার ও বিভিন্ন খাতে অবদান রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
অন্যদিকে আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শারমিন আখতার বলেন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সকল শিক্ষার্থী অত্যান্ত মেধাবী,আমি তাদের উত্তোরোত্তর সাফল্য কামনা করি।”
উল্লেখ্য,বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির এবারের মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮ হাজার ৫৯৯ জন প্রার্থী। গতকাল রোববার (১৫ মার্চ ) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
উত্তীর্ণ প্রার্থীরা বাংলাদেশে আইন পেশায় অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ যেকোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীন আইন পেশা পরিচালনার জন্য আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এছাড়া উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আইন পেশা শুরু করার জন্য ছয় মাসের মধ্যে তাঁদের নির্বাচিত বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

