amadermuktokantho
চট্টগ্রামবৃহস্পতিবার , ২৩ নভেম্বর ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একজন আর্দশ পিতার স্মৃতিচারণ

শ্যামল শীল
নভেম্বর ২৩, ২০২৩ ১১:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি সদর ইউনিয়নের হাড়িভাঙ্গা এলাকার নাটানা গ্রামের পিতা চন্দ্র কান্ত শ্রীল এবং মাতা জেংস্না শীলের পুত্র নরেন শীল।তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা ছিল।

আমার বাবা একজন কৃষক ছিলেন। জন্ম থেকেই দেখেছি, বাবা অন্যের জমিতে কাজ করে দৈনিক পরিবারের ভরণপোষণলন জোগাতে। আমি শৈশবে ঠাকুরমার কাছে শুনছি যে আমার পিতার বয়স যখন ৩ মাস তখন আমার ঠাকুরদা ইহলোক ছেড়ে পরলোক গমন করছে।আমার ঠাকুরমা ওই সময় নিজের সন্তান ও মেয়ে কে অনেক কষ্টে মানুষ করছে।সে সময় আমাদের গ্রামে তারাপদ মল্লিক নামে একজন সম্ভান্ত ব্যক্তি ছিলেন।ওনার বাড়িতে আমার ঠাকুরমা কাজ করতেন।তখন পরিবারে ছিল খুবই অভাব। এমন অভাব ছিল যে সে সময় খুদ( চালের টুকরা অংশ) শাপলা সিদ্ধ ও কচু শাক সিদ্ধ করে জীবন ধারন করেছে।আমার বাবা লোকের বাড়িতে কাজ করে পরিবারে মা,ঠাকুরামা ভাই সহ আমাদের লেখা পড়ার খরচ জোগায়ছেন।
বাবা পূজা বা যে কোন অনুষ্ঠানে বাবা নতুন জামা নিতেন না, শুধু আমাদের জন্য কিনতেন।আমি সবার বড়। আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে বর্তমান বিদুৎ জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে (DESCO)তে কর্মরত আছি।
আমার ছোট ভাই স্বপন শীল আশাশুনি সরকারী কলেজ সমাজবিজ্ঞান (বি,এস,সি)বিষয়ে ২য় বর্ষে অধ্যায়নরত। ছোট ভাই পড়া লেখার পাশা পাশি মাছের কাটায় কাজ করে।ছোট ভাই খুব নম্র ও ভদ্র।
গৃহিণী মা সব সময় আমাদের খেয়াল রাখেন। অন্যদিকে অন্যের ক্ষেত খামারে কৃষি কাজ করতেন।বাবা,মা উভয় কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

বাবা একজন কৃষক, মানে কৃষক হয়েও আমাদের দুই ভাইয়ের পড়াশোনার সব দায়িত্ব পালন করছেন।কারন বাবার স্বপ্ন ছিল ২ ভাই পড়া লেখা শেষ করে এক দিন চাকরি পেয়ে পরিবারের অভাব দূর করবে।কিন্তু,বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যাবে ভাবতে পারিনি।২০২১ সালের নভেম্বর মাসে ২২ তারিখে বাবা ব্রােইন টিউমারে আক্রান্ত হন।ধীরে ধীরে বাবা মৃত্যুর কেলে পতিত হন।

অনশেষে ২০২২ সালের ৭ জুলাই ইহলোক ছেড়ে পরলোক গমন করেন।মৃত্যু কালে বাবার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর।কাষ্টের বিষয় তুমি সারা টা জীবন আমাদর জন্য বিলিয়ে দেছো, আজ তুমি আমাদের মাঝে নেই, তখন নিজের চোখে জল চলে আসে।প্রতি টা ক্ষণ নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়।বাবা হল বট বৃক্ষ। সেই বট বৃক্ষ যার জীবনে নেই, সেই ই জানে বাবার গুরুত্ব। তোমার আদর্শ জীবনে ধারন করে বড় হয়েছি।ভবিষ্যৎ এ তোমার আদর্শ নিয়ে সামনের পথ পাড়ি দিব।

অন্য দিকে ২০২২ সালে ৩০ ডিসেম্ব আনুমানিক রাত ৮ঃ২০ মিনিটে ঠাকুরমা পরলোক গমন করেন।এভাবে তাদের ছেড়ে চলে যাওয়া টা মেনে নিতে অনেক কষ্ট হয়।

বাবা তুমি না থাকলে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পেতাম না। আমার সফলতার পেছনে তুমি ছিলে। আমার জীবনে তোমার অবদান বলে শেষ হবে না।তুমি শত বছর আমার হৃদয়ে থেকো।তোমার স্বপ্ন গুলো বাস্তবে রূপ দিতে আমি কঠোর পরিশ্রম করে চলেছি।সেই সাথে আমি দৈনিক সাতক্ষীরার সংবাদকর্মী, কতৃপক্ষ ও সাতক্ষীরা জনগন আমার জন্য আর্শিবাদ/দোয়া করবেন।আমি যেন দেশ ও জনগনের সেবায় নিজেকে আত্ম নিয়োগ করতে পার।

বাবা তুমি আমার অংশ ছিলে, থাকবে
তোমার সন্তান হয়ে জন্ম নিয়ে
গর্ব করি দিনে–রাতে।
বাবা তুমি আমার অহংকার,
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি তোমায় চিরকাল।’

লেখকঃ শ্যামল শীল
কর্মকর্তা, ঢাকা ইলেকট্রনিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।