জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই সহকারী প্রক্টর, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের খেলা অমীমাংসিত থাকায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ জয় লাভ করে। খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা তেড়ে এসে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপর আক্রমণ করে। উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী কতৃক গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একজন নারী শিক্ষক কে শারীরিক লাঞ্ছনা করা হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে মাঠে দায়িত্ব পালনরত দুইজন সহকারী প্রক্টর, দুই বিভাগের তিনজন শিক্ষক, ১২ জন শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসে কর্মরত তিনজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
যদিও সংঘর্ষের ঘটনায় দুই বিভাগের কোনো শিক্ষার্থী, খেলোয়াড় বা আহতদের বক্তব্য পাওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, ‘আজ খুবই দুঃখজনক একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা সবাই দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের থামানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা কেউ আমাদের কথা শোনেনি। কথা কাটাকাটির জের ধরে উভয়পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডি এবং দুই বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রনেতাদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আজকের সংঘর্ষের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

