হাল্ট প্রাইজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আয়োজিত এমন একটি প্রতিযোগীতা যেখানে পৃথিবীর বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে, সামঞ্জস্যপূর্ন বিজনেস আইডি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এই প্রতিযোগিতা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২০০০+ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয়ে থাকে। সাধারণত বৈশ্বিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মানানসই এবং অনন্য বিজনেস আইডিয়া গুলো এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সামনে আসে।
“শিক্ষার্থীদের জন্য নোবেল পুরস্কার” হিসাবে খ্যাত এবং প্রশংসিত, হাল্ট প্রাইজ হল বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতা, যা হাল্ট ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস স্কুল, হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশন এবং ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের দ্বারা আয়োজিত হয়ে থাকে।
এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন ইভেন্ট, প্রশিক্ষণ এবং বিখ্যাত USD ১,০০০,০০০ গ্লোবাল স্টার্ট-আপ পুরস্কার প্রদান করে পথ প্রশস্ত করা হয়। অনন্যা দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে হাল্ট প্রাইজ বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ৩য় বারের মতন হাল্ট প্রাইজের যাত্রা শুরু করছে। অর্গানাইজিং কমিটির তালিকা ইতিমধ্যে বিষবিদ্যালয়টির অফিসিয়াল Hult Prize at BSMRMU ফেসবুক পেজটিতে প্রকাশ পেয়েছে। গতবারের তুলনায় এবারের প্রতিযোগিতাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশি আগ্রহী। হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতাটি তিনটি লক্ষ্য নিয়ে করা হয়ে থাকে যেগুলো হলো, নেতৃত্ব দেয়ার গুণাবলি অর্জন, জ্ঞান অর্জন এবং সর্বোপরি দলীয়কাজের গুণাবলি অর্জন। হাল্ট প্রাইজে অংশগ্রহণ করে, শিক্ষার্থীরা, প্রাইজ মানি জেতার সুযোগ পান, বিশ্বব্যাপী ইভেন্টে আমন্ত্রিত হন, গ্লোবাল এক্সপোজার হিসেবে পরিচিতি পান এবং অংশগ্রহণের জন্য সার্টিফিকেট পেয়ে থাকেন।
প্রতিযোগিতাটি শিক্ষার্থীদের যেকোনো সময়ের জন্য সঠিকভাবে প্রস্তুত হতে, একজনকে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে এমন প্রশ্নগুলিকে অনুধাবন করতে এবং আগে থেকেই প্রয়োজনীয় উত্তর তৈরীর সাথে প্রস্তুত থাকতে শেখায়। এটি হটাৎ প্রস্তাবিত প্রশ্ন হতে চমকিত হওয়ার সম্ভবনা কমিয়ে দেয়।
প্রযুক্তি আরও উন্নত হচ্ছে, প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণকারীদের যেকোনো উদ্ভাবনে প্রযুক্তিগত উপাদান বিবেচনা করতে এবং এটি হাইলাইট করতে সহায়তা করে। শুধু আইডিয়ার চেয়ে বেশি, একটি জরিপ এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্জিত বাজার সম্পর্কে একটি ভাল জ্ঞান প্রতিযোগিতার জন্য অন্যতম দিক।
একটি দল হিসাবে, শিক্ষার্থীদের শেখানোর চেষ্টা করা হয় যে তারা কীভাবে চিন্তা করবে, সঠিকভাবে কাজ করবে এবং তারা বিশ্বে যে ধরণের পরিবর্তনটি দেখতে চান তার বাস্তবিক রূপায়ণ। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মী, বিশেষজ্ঞ, সংগঠক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে মানবতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলি সমাধান করার জন্য একসাথে কাজ করে। তাদের নতুন ধারণা এবং অনুপ্রেরণা, নেটওয়ার্ক এবং এর সাথে আসা কাজ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে সবার জন্য একটি টেকসই ও উন্নতমানের বিজনেস আইডিয়ার আশা দেখ যায়৷ ম্যানেজমেন্ট এবং কমিউনিকেশন স্কিল আরো মজবুত হয়।
প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র সচেতন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠে না বরং বিশ্ব নেতাদের একটি প্রজন্মের অংশীদার হয়ে উঠে। সময়পুযোগী বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্র হিসেবে এটি কাজ করে থাকে।
এবারের হাল্ট প্রাইজ অর্গানাইজিং কমিটির সাথে যোগাযোগ করা হলে, কমিটির প্রিন্ট এন্ড মিডিয়া বিভাগের যুগ্ম প্রধান, মেরিটাইম ল’ এন্ড পলিসি বিভাগের ছাত্রী শেখ মাহবুবা মৈত্রী এ সব তথ্য দেন এবং জানান- “শিক্ষাথীদের বিভিন্ন ধরণের বৈশ্বিক কর্মসূচি ও ট্রেন্ডের উদঘাটনের মাধ্যমে তুখোড় করে তোলা এবং টেকসই উন্নয়নশীল আইডিয়া সামনে আনার জন্য বসেমুরমেবি হাল্ট প্রাইজ ২০২৩ এবার কাজ করবে।”
এবারের বশেমুরমেবি হাল্ট প্রাইজের ক্যাম্পাস ডাইরেক্টর, পোর্ট এন্ড শিপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্র রাকিব রহমান বলেন- “গ্লোবাল ওয়ার্মিং, খাদ্য সংকট, পরিবেশ এবং সর্বোপরি সামাজিক বিপর্যয়ের মত সমস্যাগুলো দূর করে, একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ পেতে হলে, পৃথিবীর চিরাচরিত বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। হাল্ট প্রাইজ পৃথিবীর একটি অন্যতম প্রধান তরুণ প্রজন্ম কেন্দ্রিক কম্পিটিশন যা প্রতি বছর এক একটি চ্যালেঞ্জ প্রদানের মাধ্যমে সাসটেইনেবল গোল সমূহ পূর্ণ করতে সহায়তা করে থাকে। বর্তমান প্রজন্মকে শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক পুঁথিগত বিদ্যা লব্ধ জ্ঞান অর্জন করে, একক কোন সেক্টরের সমস্যা নিয়ে ভাবলেই চলবে না! বরং জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে, যতদূর সম্ভব বিবিধ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যেতে হবে। রিডিজাইনিং ফ্যাশন, যা হাল্ট প্রাইজ ২০২৩ চ্যালেঞ্জ এর চ্যালেঞ্জ, এমন একটি সমস্যাকে সামনে এনেছে, যা আমাদের প্রত্যেকের জীনের সাথেই জড়িত। যুগোপযোগী আইডিয়া নিয়ে, এ সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

