জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ক্যান্টিনে খাবারের মান, পরিমাণ ও মূল্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাবারের দাম ৫ টাকা কমানো হলেও সেই তুলনায় খাবারের মান ও পরিমাণ আরও বেশি কমেছে। এর মধ্যে ক্যান্টিনে প্রতিদিন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীসহ প্রায় ৭০ জন ফ্রি খাবার গ্রহণ করেন বলেও জানা গেছে।
জানা যায়, এর আগে জবি ক্যান্টিনে ৪৫ টাকায় তেহারি ও খিচুড়ি বিক্রি করা হতো। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর খাবারগুলোর দাম কমিয়ে ৪০ টাকা করা হয়। অর্থাৎ খাবারের দাম কমেছে মাত্র ৫ টাকা। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দাম কমানোর তুলনায় খাবারের পরিমাণ ও মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, আগে ৪৫ টাকায় যে পরিমাণ খাবার ও মাংস দেওয়া হতো, বর্তমানে ৪০ টাকায় তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশও পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে খিচুড়ি ও তেহারির পরিমাণ এক মুঠোরও কম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে একজন শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক ক্ষুধা নিবারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এছাড়া তেহারিতে মাংসের পরিমাণও অত্যন্ত কম বলে অভিযোগ রয়েছে। খিচুড়িতে মাংস দেওয়া হলেও সেটির আকার আগের তুলনায় অনেক ছোট বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে এক শিক্ষার্থী বলেন, “আগে খাবারের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও অন্তত যে পরিমাণ খাবার দেওয়া হতো, তাতে ক্ষুধা নিবারণ করা যেত। এখন খাবারের পরিমাণ এতটাই কম দেওয়া হয় যে, অর্ধেক ক্ষুধাও নিবারণ করা সম্ভব হয় না। আর মাংসের সাইজের কথা কী বলব! এত ছোট সাইজের মাংস হয়তো জবির ক্যান্টিনেই পাওয়া যায়।”
ফ্রি খাবারে চাপ, দাবি ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের
ক্যান্টিনে খাবারের মান ও পরিমাণ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিদিনের ফ্রি খাবারের বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সক্রিয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীসহ প্রতিদিন প্রায় ৭০ জন ক্যান্টিন থেকে ফ্রি খাবার গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ক্যান্টিনের ম্যানেজার মাসুদ বলেন, “আগের তুলনায় খাবারের দাম কমেছে, কিন্তু প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। এর মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৭০ জন ফ্রি খাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও কোনো ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে না। আবার মাঝে মাঝে গ্যাসের লাইনেও সমস্যা হয়। আমি ব্যবসা করি, আমারও কিছু লাভ রাখতে হয়। তারপরও আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
ফ্রি খাওয়া বন্ধের দাবি প্রক্টরের
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, “আমি শুনেছি অনেক শিক্ষার্থী ফ্রি খায়। ফ্রি খেলে মান ও পরিমাণ কীভাবে মাসুদ ঠিক রাখবে? তারও তো লাভ করতে হয়। ফ্রি খাওয়া বন্ধ করা দরকার।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের টিএসসি থেকে দোকান ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে কিছু টাকা সংগ্রহ করে তা ক্যান্টিনে ভর্তুকি হিসেবে দেওয়ার। তবে সেখানেও কিছু আইনগত সমস্যা রয়েছে।”
প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে: জকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক
জকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক নূর মোহাম্মদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি ক্যান্টিনের খাবারের মান, পরিমাণ ও পরিবেশ নিয়ে ক্যান্টিনের ম্যানেজার মাসুদের সঙ্গে কথা বলেছি। মাসুদ আমাকে জানিয়েছে, অনেকেই ফ্রি খাওয়ার কারণে তার সমস্যা হচ্ছে। আমাদের এই ফ্রি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হলে সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রশাসনের সঙ্গে বারবার এ বিষয়ে কথা বলছি এবং সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করি, বিষয়টির দ্রুত সমাধান হবে।”
আরও অনুসন্ধান চলছে-
ক্যান্টিনে নিয়মিত ফ্রি খাবার গ্রহণকারীদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তী অনুসন্ধানে ফ্রি খাবার গ্রহণকারী শিক্ষার্থী, ছাত্রনেতা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আসছে। একই সঙ্গে ক্যান্টিনে ফ্রি খাবার গ্রহণের বিষয়টি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, এর পেছনে কারা রয়েছেন এবং এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের খাবারের মান ও পরিমাণে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে—এসব বিষয়ও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

