আজ ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ❝পানি ও স্যানিটেশন সংকট সমাধানে ত্বরান্বিত পরিবর্তন❞
১৯৯২ সালে রিও ডি জেনিরোতে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে পানি দিবস পালনের প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয় এবং ১৯৯৩ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হওয়ার জন্য অন্য সকল দেশের মতো বাংলাদেশ ও দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকে। বাংলাদেশে দিবসটি পালনের দায়িত্ব বহন করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
পানি দিবস এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে পানি সম্পদ সম্পর্কে আমাদের সর্তক করা।
ভূপৃষ্ঠের ৭১ শতাংশ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে পানি। তারপরও বলা হয় পানি সমস্যা। কারন পৃথিবীর মোট পানির ৯৭ শতাংশ হলো লবণাক্ত যা আমাদের ব্যবহার যোগ্য নয়। বাকি ৩ শতাংশের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ রয়েছে বরফ আকারে তাই পানযোগ্য পানির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২/৩ লিটার বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন।বিশুদ্ধ পানি সমস্যা বিশ্বে দিন দিন তীব্র হচ্ছে। পানি দূষণ এই সমস্যা সবচেয়ে বড় কারন। প্রতিনিয়ত পানি দূষিত হচ্ছে। মানবসৃষ্ট কারনেই পানি দূষিত হয়। পানি সংকটের জন্য সেই দূষিত পানি আমরা ব্যবহার করছি বা পান করছি যার ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসের মতো পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ বাড়ছে।
বাংলাদেশের মতো গণবসতি পূর্ণ দেশে বিশুদ্ধ পানি সংকট অনেক আগে থেকেই। রাজধানী ঢাকাতে সবথেকে বেশি পানি সংকট। রাজধানী বাসির পানির জন্য ওয়াসার উপর নির্ভর করতে হয়। ওয়াসার পানির ১৫ শতাংশই আসে সায়দাবাদ পানিশোধনাগার থেকে। শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গার দূষিত পানি এখানে শোধন করা হয়। শোধন কৃত পানি থেকেও ময়লা ও দুর্গন্ধ পাওয়া য়ায়। তাই ওয়াসার পানি মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। রাজধানীর পরেই রয়েছে খুলনা ও আশেপাশের উপকূলীয় অঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু জেলা।
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রবণ একটি দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যার ফলে এই পানি সমস্যা আরো তীব্র হয়।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক ও কৃষি প্রধান দেশ। প্রকৃতপক্ষে এদেশে পানি সমস্যা থাকার কথা না। প্রতিনিয়ত নদীর পানি দূষণ, নদী ভরাট, কৃষি কাজে নদীর পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য অনেক নদী বিলীন ও শুকিয়ে গেছে। যা পানি সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পানি সংকট শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই এই সমস্যা রয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশের অনুন্নত দেশ গুলো তে পানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় ২০২৫ সালে ১.৮ বিলিয়ন ও ২০৪০ সালে ৫ বিলিয়ন মানুষ পানি সংকটে পরবে।
বিশ্ব পানি দিবসের লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী পানি দূষণ বন্ধ করা, পানির অপচয় রোধ ও পানি সম্পদের প্রতি মানুষকে যত্নশীল করা। যাতে পৃথিবীর সকল মানুষ তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে পারে। “পানি জীবন তাই ইহাকে নষ্ট করোনা”
লেখক :রুহুল আমিন রনি
শিক্ষার্থী , গণযোগাযোগ ও সংবাদিকতা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

