amadermuktokantho
চট্টগ্রামশনিবার , ২৫ মার্চ ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২৫ শে মার্চ,বাংলাদেশের এক কালো অধ্যায়

খন্দকার মারিয়াতুল ইসলাম 
মার্চ ২৫, ২০২৩ ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আধাঁর রাত,শুনশান চারপাশ মাঝে মাঝে কুকুরের  ডাকগুলো বেশি শোনা যাচ্ছে। কি যেন আজকে একতু বেশি বোধ  হয় ডাকছে।রিকশা গাড়ি  তখনও চলছে রাস্তা দিয়ে।
কেউ বাড়ি ফিরছে। কেউ হয় তো দৈনিক কাজ শেষে ফিরছে রিকশা জমা দিতে। লোকজনের আনাগোনা তখনও আছে।বেশিরভাগ লোকই ছাত্র। চায়ের দোকানের ছাপিটা তখনও খোলা। চা আর আড্ডা  লেগেই আছে।দোকানি ক্লান্ত হাতেই বানাচ্ছে চা তখন। হল গুলোতে তখনও আলো জ্বলছে। অনেকেই বাতি নিভিয়ে ঘুমের দেশে নিরুদ্দেশ হলেও অনেকেই জেগে আছে পরের ক্লাসের নোট করা নিয়ে আবার কেউ কেউ আড্ডায়  মশগুল। পরের দিনের প্রথম প্রহর আসতে আর আধ-ঘন্টার মতো বাকি। ঘড়ির কাটা গুলো  ঘুরছে টিক-টিক করে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে। হঠাৎ  এর মধ্যেই এক বিকট আওয়াজ আসলো  রাস্তার দিক থেকে সাথে মানুষের চিৎকার। রাতের ঠান্ডা পরিবেশ হঠাৎ করেই গরম হয়ে গেলো  এক নিমিষে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ আর মানুষের আহাজারি পরিবেশটাকে ভারী করে তুললো। ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট তখন দানবের দখলে।দামাল ছেলেদের তাজা রক্তে ভারী হলো বাংলার আকাশ। রাস্তা ছেড়ে গভীর রাতে হলগুলোতে প্রবেশ করলো অস্ত্রধারী খাকি পোশাকের কিছু মানবরুপী জন্তুরা। এক এক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  ইকবাল হল (বর্তমান জহুরুল হক হল) ও জগন্নাথ হলে ঢুকে এই মানুষরুপী দানব পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে  হত্যা করে অনেক ঘুমন্ত  ছাত্রকে ।
ঢাকা হলসহ (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল) বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকা এবং রোকেয়া হলেও তারা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায় তারা। ঘটনাটা হলো ১৯৭১ সালের ২৫ শে  মার্চের দিবাগত রাতের। যেই রাতে বাঙ্গালীদের জীবনে এক কালো অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। যেই রাতে “অপারেশন সার্চলাইট ” নামক পশ্চিম পাকিস্তানিদের( গণহত্যার নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এবং মূল দায়িত্বে হানাদার বাহিনীর মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী) নিষ্ঠুর  পরিকল্পনায় অনেক বাঙালির  জিবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। এই গণহত্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকসহ ৩০০ ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারী নিহত হন। শুধু তাই নয় জহুরুল হক হল সংলগ্ন রেলওয়ে বস্তিতে সেনাবাহিনী আগুন দিলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সংগঠিত হয়। শুধুমাত্র ২৫শে মার্চ রাতেই ঢাকাতেই ৭ থেকে ৮ হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।
ঢাকার বাইরেও সারা দেশে সেনানিবাস, ইপিআর ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য বাঙালি সেনাকে হত্যা করে।হানাদার বাহিনীর পরিকল্পনা মতাবেক ২৫শে মার্চ রাত দেড়টায় (২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে) বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রেফতার করে। তবে গ্রেফতারের আগেই বঙ্গবন্ধু  স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে দেশবাসীকে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। যার মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতি  স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অভ্যুদ্বয় ঘটে নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের। বাংলাদেশ।
লেখক: খন্দকার মারিয়াতুল ইসলাম
শিক্ষার্থী: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।