“স্বাধীনতা”- শব্দটি কেমন যেন আপন মনে হয়, মনে হয় যেন তা নিজ সত্তার সাথে জড়িত। আর আপন মনে হবেই বা না কেন? এই শব্দটি তো আমাদের।
স্বাধীনতা, বাঙালির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মনোভাব সৃষ্টির উৎস, নিজেকে বাঁচানোর তাগিদ অনুভব, বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। স্বাধীনতা যে বাঙালির আত্মার সাথে জড়িত।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ। দিনটি মোটেও আট-দশটা স্বাভাবিক দিনের মতো ছিল না। চারপাশে শুধু আত্মচিৎকার, মাটিতে লুটিয়ে মৃতদেহ, বাতাসে লাশের গন্ধ, নিস্তব্ধতা ও আতঙ্কে ছেয়ে গেছে চারদিক। তবে ছিল একটি আদর্শ বাণী, লড়াই করার প্রেরণা। আর এই প্রেরণার পেছনে ছিলেন এক স্বপ্নদ্রষ্টা যিনি স্বপ্ন দেখান একটি স্বাধীন জাতির। তিনি হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
২৫শে মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ ও ঘুমন্ত বাঙালির উপর নৃশংস হত্যাকান্ড চালায় তখন পরিস্থিতি দেখে বঙ্গবন্ধু ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে এদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি এদেশের মানুষকে লড়ে যেতে বলেন যতদিন পর্যন্ত না শোষক গোষ্ঠী এদেশ থেকে সমূলে বিতাড়িত হয়, যতদিন না স্বাধীন তা অর্জিত হয়। তাঁর এই ভাষণ ও্য়্যারলেসের মাধ্যমে সারাদেশে প্রচারিত হয় এবং মানুষ দলে দলে মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ে। সেই থেকে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মানুষ নিজের অধিকার আদায়ের জন্য, দেশ ও দেশের মানুষের মুক্তির জন্য লড়ে যেতে থাকে।
২৬শে মার্চ থেকেই বাঙালির নতুন সংগ্রামের অধ্যায় উন্মোচিত হয়, রচিত হয় বাংলার ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়। এই দিনটি এখন বাঙালির স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
লেখক: ফাতেমা তুজ জহুরা লাবন্য।
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

