amadermuktokantho
চট্টগ্রামরবিবার , ১ ডিসেম্বর ২০২৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভালুকায় সংঘবদ্ধ ভুমিদস্যু ও চাঁদাবাজ চক্রের খপ্পরে পড়েছেন নাজমুল ইসলাম নামে এক প্রবাসী শিল্পপতি

স্টাফ রিপোর্টার
ডিসেম্বর ১, ২০২৪ ১০:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহের ভালুকায় সংঘবদ্ধ ভুমিদস্যু ও চাঁদাবাজ চক্রের খপ্পরে পড়েছেন নাজমুল ইসলাম নামে এক প্রবাসী শিল্পপতি। এ বিষয়ে সম্প্রতি সেনাবাহিনী ও পুলিশ বরাবরে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগে সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপনের উদ্দেশ্যে ৩৫ বিঘা নিষ্কন্টক ও দেয়াল দিয়ে ঘেরা জমি কেনেন তিনি। জমি কেনার পর নিয়মানুযায়ী নামজারী ও খাজনা পরিশোধ করার পাশাপাশি কেয়ারটেকার নিয়োগ দিয়ে জমি দেখাশোনা করে আসছিলেন তিনি ।

স্থানীয় বনবিভাগ ওই জমির ১৫৪ নং দাগে তাদের দাবি রয়েছে বলে জানালে ২০০৬ সালে নাজমুল ইসলাম ভালুকা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কার্যালয়ে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন । পরে এসিল্যান্ড নিজেদের সার্ভেয়ার দিয়ে জরিপ ও স্কেচম্যাপ তৈরি করে ওই জমি বনের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তা বনবিজ্ঞপ্তিত ভুমি থেকে অবমুক্ত করতে সুপারিশ সম্বলিত একটি প্রতিবেদন ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ফরেস্ট সেটলমেন্ট অফিসার বরাবরে পাঠান। সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ফরেস্ট সেটলমেন্ট অফিসার নিজে স্বরেজমিনে তদন্ত করেন । রায়ে তিনি উক্ত জমি বনের দাবি থেকে অবমুক্তি করেন ও ২০ ধারায় চুড়ান্তভাবে সংরক্ষিত বন ঘোষণার বহির্ভুত রাখার জন্য আদেশ প্রদান করেন।
এরপর বনবিভাগ ২০০৭ সালে পুনরায় ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার আদালতে আপিল করে। উক্ত শিল্পপতির জমির সকল কাগজ পর্যালোচনা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ফরেস্ট সেটলমেন্ট অফিসারের রায়ের কপি, ও এসিল্যান্ড কার্যালয়ের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার আদালত ওই জমি বনের বিজ্ঞপ্তি বহির্ভুত রাখার আদেশ বহাল রাখেন ও বনের পক্ষ থেকে করা আপিল আবেদন খারিজ করে দেন।
এর দীর্ঘদিন পর ২০১৭ সালে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করে না পেয়ে আদালতের সকল রায় ও আদেশ অগ্রাহ্য অমান্য করে জমির প্রকৃত মালিক ওই শিল্পপতিকে নানাভাবে হয়রানি শুরু করে স্থানীয় বন বিট কর্মকর্তা। পরে বাধ্য হয়ে তিনি ২০১৮ সালে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। শুনানীর পর মহামান্য হাইকোর্ট “যতদিন পর্যন্ত এই জমি সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি না হবে ততদিন পর্যন্ত” ওই জমিতে নাজমুল ইসলামের পক্ষে স্ট্যাটাস কো ও নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন কোন ঝামেলা ছাড়াই নিজ জমি কেয়ারটেকার দিয়ে দেখভাল এবং ভোগদখল করে আসছিলেন তিনি। নাজমুল ইসলাম স্বপরিবারে বিদেশ চলে গেছেন বলে ২০২২ সালে জানাজানি হবার পর স্থানীয় ভুমিদস্যু ও চাঁদাবাজ চক্রের হোতা আবু জাফর সরকার ও আওয়ামী সন্ত্রাসী গংদের সাথে নিয়ে জবরদখলের উদ্দেশ্যে আবির্ভুত হয় বন বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম । ২০২৩ সালে সাজানো হয় বনের জমি উদ্ধারের নাটক। ওই শিল্পপতি দেশের বাইরে থাকার সুযোগে মহামান্য হাইকোর্টের ২০১৮ সালের নির্দেশ অবমাননা করে গত ৫ আগষ্ট ২০২৩ তারিখে দিনব্যাপী হবিরবাড়ী বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম খানের নেতৃত্বে ওই জমি উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়। এমনকি সেই ঘটনায় ওই শিল্পপতিকে ভূমিদস্যু হিসেবে দেখিয়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। দেশের বাইরে অবস্থান করায় ওই ঘটনার বিষয়ে কোন কিছুই জানতে পারেননি তিনি।
বন বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম খান, হবিরবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান বাচ্চু, হারুনুর রশীদ, স্থানীয় চাঁদাবাজ ও ভুমিদস্যু চক্রের হোতা আবু জাফর সরকার, তার ভাই আক্তার সরকার, ছেলে নাঈম সরকার (বিভিন্ন মামলায় জেলে রয়েছে), খোরশেদ আলম জীবন (মাদক মামলায় জেলে রয়েছে) ও ওমর আলী গংদের সহায়তা ও প্রত্যক্ষ মদদে ওই শিল্পপতি বা তার নিয়োগকৃত কেয়ারটেকাররা যেন সেই জমিতে যেতে না পারে সেইজন্য জমির সামনের সীমানা প্রাচীর ঘেষে ও তাহার গেইটের ভিতরে হবিরবাড়ি অঞ্চলের সকল ময়লা আবর্জনা ও বর্জ্য স্তুপাকারে ফেলতে থাকে। এমনকি ওই গং পরপর ১১ বার নাজমুল ইসলামের জমির গেইটের তালা ভেঙে ফেলে ও দুইবার জমিতে স্থাপিত হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত লোহার সাইনবোর্ড ভেঙে নিয়ে যায়। এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনা ওই চক্র; অনুসন্ধান ও অভিযোগে জানা গেছে, অন্তত ৬ বার ওই জমির কেয়ারটেকারদের মারধোর করে রক্তাক্ত করে তারা, এমনকি গভীররাতে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করে ওই চক্র। অনুসন্ধান বলছে, বনের কাঁধে ভর করে ওই জমি জবরদখলের জন্য বন বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ও ভুমিদস্যুদের মাঝে অন্তত ৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়।
তার পর থেকেই আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ওই জমি দখল করতে বেপরোয়া হয়ে উঠে ওই সম্মিলিত দস্যুচক্র। এ বিষয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ভালুকা মডেল থানায় অন্তত ৬ বার অভিযোগ করলেও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাদের প্রভাব ও ওই চক্রের বাধায় আইনগত কোন সহযোগিতা পাননি ওই শিল্পপতি ।
অতপর গত ৫ আগস্ট আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের পতনের পর নতুন করে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের কাঁধে ভর করে ওই জমি জবরদখলের জন্য বন বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ও স্থানীয় ভুমিদস্যু গং নতুন করে নাটক শুরু করেন। কোন কারন ছাড়াই ওই জমির ময়লা সরানোর কাজ তদারকীর জন্য শিল্পপতির নিয়োগ করা কেয়ারটেকারসহ ৩ জনকে ১৮ই নভেম্বর অপহরণ করে আশরাফুল গং। ৩ ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীর কমান্ডার কর্নেল মাহমুদ ও সিও মেজর নোমানের তড়িৎ হস্তক্ষেপের ফলে ও প্রশাসনের চাপের মুখে তাদের ফেরৎ দিতে বাধ্য হয় । পরে ওই শিল্পপতি সেনাবাহিনীর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার কাছে বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাদাবাজীর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এখনও বনকে ব্যবহার করে বন কর্মকর্তা ও ভুমিদস্যু চক্রের সদস্যরা উক্ত শিল্পপতির বৈধ জমি হাতিয়ে নেয়ার নানা ফন্দি করছে । আর একারনে বারবার ঐ শিল্পপতির বিরুদ্ধে কিছু মিডিয়া কর্মীকে ব্যবহার করে শতভাগ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বিভ্রান্তিকর ভুয়া সংবাদ প্রচার করছে। ভুক্তভোগী ওই শিল্পপতি কুখ্যাত ভূমিদস্যু আবু জাফর সরকার ও তার দোসর দূর্নীতিবাজ বন বিট কর্মকর্তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।