amadermuktokantho
চট্টগ্রামসোমবার , ১০ এপ্রিল ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একটি স্বপ্নকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
এপ্রিল ১০, ২০২৩ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে শিপেন চন্দ্র বর্মনের স্বপ্ন ছিল পরিবারের হাল ধরার। কিন্তু গত সাত বছরে সেই স্বপ্ন ফিঁকে হয়ে গেছে। ২০১৫ সালে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে চলছে চিকিৎসা। দিনের পর দিন চিকিৎসার খরচ জোগাতে হাঁপিয়ে উঠেছে শিপনের মধ্যবিত্ত পরিবার। এখন অর্থাভাবে থমকে আছে উন্নত চিকিৎসা। তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে এবং প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ৩৫-৪০ লাখ টাকা। এত টাকা না থাকায় আক্রান্ত শিপেনের করুণ দশা দেখে প্রতিদিন চোখের পানি ফেলছেন অসহায় মা-বাবা। কাঁদছেন এক বছর আগে শিপনের জীবনসঙ্গী হয়ে আসা নববধূ জুঁই রানিও। এখন বিত্তবানদের আর্থিক সহায়তায় শিপেন চন্দ্র বর্মনকে বাঁচানোর আকুতি তাদের।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের লতিঝাড়ি গ্রামের হরিশ চন্দ্র বর্মনের দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে বড় শিপেন চন্দ্র বর্মন। শিপেন চন্দ্র বর্মন ২০০৮ সালে আটোয়ারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০১০ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিপেন চন্দ্র বর্মন ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শিপেনের বাবা হরিশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ২০১৫ সালের শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন প্রায়ই শিপেন অসুস্থ হতো। বেশ কয়েকবার জ্বর হয়। কখনো অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা শেষে শিপেনের কিডনিজনিত রোগ ধরা পড়ে। জানা যায়, দুটো কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। সেই থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে শিপেনের চিকিৎসা করা হয়েছে। এখনো রংপুরে তার চিকিৎসা চলছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য ছেলেকে ভারতের চেন্নাইয়ের গ্লোবাল হাসপাতালে নিয়েছিলাম। সেখানেও কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু আমার তো সেই সামর্থ্য নেই। ছেলের বন্ধুরাসহ গ্রামবাসী বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে, তাদের সহায়তার টাকা দিয়ে চিকিৎসা করেছি। বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। যা সম্বল ছিল, ছেলের জন্য শেষ করেছি। এখন আমার যা অবস্থা তাতে দেশেই চিকিৎসা করাতে পারব কি না জানি না। সবার সহযোগিতা ছাড়া ছেলের উন্নত চিকিৎসা ও কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

নিজের অসুস্থ হওয়ার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিপেন চন্দ্র বর্মন। কাঁদতে কাঁদতে জানান, কিডনি রোগে ২০১৫ সাল থেকে ভুগছেন। কখনো কখনো একদিন দু-দিন করে প্রায় মাসখানেক ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে থাকতে হয়। গত সাত বছর ধরে চিকিৎসা চলছে। এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এ বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে প্রায় দেড় মাস রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন শিপেন। সেখানে তাকে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস করাতে হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে বেকায়দায় পড়েছেন। বাইরে থেকে চিকিৎসার সব উপকরণ কিনে চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে।

শিপেনের ছোট ভাই রঞ্জন চন্দ্র বর্মন বলেন, কিডনি রোগীদের একবার ডায়ালাইসিস করতে তিন হাজার টাকার চিকিৎসা উপকরণ কিনতে হচ্ছে। স্বল্প আয়ের রোগীরা ডায়ালাইসিস করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অর্থের অভাবে অনেক রোগীর ডায়ালাইসিস বন্ধ রয়েছে। অনেকেরই শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে। আমার ভাইও এক্ষেত্রে বাদ পড়েনি। আমরা সাধ্যমতো তার চিকিৎসার চেষ্টা করছি। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য আমাদের নেই।

বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছেড়ে একটি ভাড়া বাড়িতে আছেন শিপেন চন্দ্র বর্মন। সেখান থেকে তাকে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়ালাইসিস করানো ছাড়াও ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে।

শিপেন চন্দ্র বলেন, আমরা দুই ভাই। পরিবারে বাবা ছাড়া উপার্জনক্ষম কেউ নেই। কিন্তু বাবা তো এখন অবসরে গেছেন। ছোট ভাইটা কলেজে পড়ে। আমি পরিবারে সবার বড়। আমাকে নিয়ে মা-বাবার অনেক স্বপ্ন। গরিব হলেও স্বপ্ন দেখতাম, পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষিত হব। দেশ ও দশের জন্য কিছু করবো। কিন্তু আজ আমার স্বপ্ন নিভে যাচ্ছে। আমি বাঁচতে চাই।

৩০ বছর বয়সী শয্যাশায়ী শিপেন বলেন, আমি আপনাদের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। আমার বাঁচার খুব ইচ্ছে। দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই। একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে আমি বাঁচব, আমার সংসার ও পরিবার বাঁচবে। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য যে ৩৫-৪০ লাখ টাকার প্রয়োজন, এই ব্যয়বহুল খরচ আমার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান, দানশীলসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করছি। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ যদি আমাকে এক টাকা করে দেয়, আমার কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবিএম মোবাশ্বের আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, অসুস্থ শিপেনের দীর্ঘদিন ধরে ডায়ালাইসিস করানো হচ্ছে। পাশাপাশি তার থেরাপি চলছে। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, একইসঙ্গে কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে সুস্থ হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিপেন চন্দ্র বর্মনের কিডনি প্রতিস্থাপনসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য পাঠাতে বিকাশ, নগদ অথবা রকেট করুন এই +০৮৮০১৩০৮১০৭০৫৪ নম্বরে। এছাড়া ব্যাংকে টাকা পাঠাতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, আটোয়ারী শাখা, পঞ্চগড়, হিসাবের নাম-হরিশ চন্দ্র বর্মন, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর-০২০০০১৪৭৭৯২৯৬। আরও বিস্তারিত জানতে শিপেনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন এই ০১৭৩৮৩৬৬৬০৪ নম্বরে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।