চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট ধলইপুলের পূর্বপাশে চলছে মাটি খেকোদের প্রকাশ্য তান্ডব। প্রভাবশালী একটি চক্রের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে এলাকাটি এখন ‘সাগর’ সদৃশ গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন কৃষিজমি নিশ্চিহ্ন হচ্ছে, তেমনি ৩৩ কেভি বৈদ্যুতিক লাইনের টাওয়ারসহ বিভিন্ন খুঁটির ভিত্তি আলগা হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাটি কাটার ফলে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটিগুলোর গোড়ার মাটি সরে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীদের মতে, টাওয়ারগুলো বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, খালপাড় ঘেঁষে মাটি কাটার কারণে আসন্ন বর্ষায় ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়তে পারে স্থানীয় বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।
ভুক্তভোগী কয়েকজন জমির মালিক জানান, চক্রটি পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিচ্ছে। প্রতিবাদ করলে তাদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। এমনকি এ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদেরও তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তাহীনতায় গত ১ এপ্রিল স্থানীয়রা হাটহাজারী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে গত রবিবার মাঠে নামে উপজেলা প্রশাসন। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান। অভিযানকালে অবৈধ মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি শক্তিশালী স্কাভেটর জব্দ করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান বলেন, “এর আগেও অভিযুক্তদের জরিমানা করা হয়েছিল, কিন্তু তারা সতর্ক হয়নি। এবার আমরা স্কাভেটর জব্দ করেছি। সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি স্থাপনা ও বৈদ্যুতিক কাঠামোর যে ক্ষতি করা হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

