অবশেষে র্যাব-৬ এর হাতে আটক হলো খুলনার আলোচিত মাহিন্দ্রা চালক রিপন হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক
আসামি মাসুদ রানা। আসামির বাড়ি খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলায়। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খুলনা র্যাব-৬ (স্পেশাল কোম্পানি) ও র্যাব-৪ ঢাকার একটি আভিযানিক দল যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। পরে ঢাকা মহানগরীর রুপনগর থানা এলাকা হতে হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী মোঃ মাসুদ রানা মোল্লা (৩৫) কে গ্রেফতার করেন র্যাব। সূত্রে জানা যায়,সাতক্ষীরার ভিকটিম মাহিন্দ্রা চালক ওহিদুর রহমান রিপন গত ১১ জানুয়ারি ২০১৬ সালে সকালে প্রতিদিনের ন্যায় গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরে আর বাড়ি ফেরেনি। পরের দিন ১২ জানুয়ারি ২০১৬ খুলনা মহানগরীর লবনচরা থানা পুলিশের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবার রিপনের লাশের সন্ধান পায়। আসামী মোঃ মাসুদ রানা মোল্লাসহ ৪ জন পেশাদার ছিনতাইকারী চক্র পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১১ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখ বিকেলে সাতক্ষীরা হতে খুলনা আসার জন্য ভিকটিমের মাহিন্দ্রা গাড়িটি ভাড়া করে। একই তারিখ সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা জেলার তালা থানা এলাকার একটি ফাকা জায়গায় আসার পরে চলন্ত গাড়ির চালকের পিছনের সিটে বসা আসামীরা রশি দিয়ে ভিকটিমের গলা পেচিয়ে ধরে। ভিকটিম চিৎকার দিলে আসামীরা চাকু দিয়ে ভিকটিমের কাধে,বুকেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে আসামীরা গাড়ির নিয়ন্ত্রন নিয়ে খুলনা মহানগরীর লবনচরা থানা এলাকার একটি নির্জন স্থানে রাস্তার পার্শ্বে ভিকটিমের লাশ ফেলে দিয়ে মাহিন্দ্রা গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে ভিকটিমের বড় ভাই বাদী হয়ে কেএমপি খুলনার লবনচরা থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি তখন বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং জনমনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। উক্ত মামলার বিচারকার্য শেষে ঘটনার সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামী মোঃ মাসুদ রানা মোল্লাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। আসামী আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়ায়। পরবর্তীতে র্যাব তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উক্ত চাঞ্চল্যকর রিপন হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী মোঃ মাসুদ রানা মোল্লাকে ঢাকা থেকে আটক করেন।

