amadermuktokantho
চট্টগ্রামমঙ্গলবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছাত্রীর দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ালেন তিতুমীরের শিক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের রসায়ন বিভাগের সংকটাপন্ন শিক্ষার্থী সাদিয়া আয়াতের কিডনি প্রতিস্থাপনের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য নিজের শখের ও দুর্লভ পোষ্য কবুতর বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছেন কলেজটির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ। শুধু অর্থ সহায়তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়ে সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষদেরও সাদিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এই শিক্ষক।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানান মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘যা কিছু দুর্লভ সেটাই দামী। বহু শখের জিনিস আমার। এ দুইটি বিক্রি করে সাহায্যপ্রার্থী তিতুমীরের রসায়ন বিভাগের ছাত্রী সাদিয়ার কিডনী প্রতিস্থাপনে যদি কিছুটা কাজে আসে। মেয়েটার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। বারবার মনে পড়ে সেই সাথে মন ও পোড়ে।’

তার এই কথাগুলোয় একজন শিক্ষকের অসহায়ত্ব, উদ্বেগ ও ভালোবাসার অনুভূতি ফুটে উঠেছে। নিজের প্রিয় শখের জিনিস বিক্রি করে পাওয়া অর্থ একজন অসুস্থ শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় ব্যয় করার সিদ্ধান্ত যেন সেই অনুভূতিরই বাস্তব প্রকাশ।

সরকারি তিতুমীর কলেজের রসায়ন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আয়াত বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শ্যামলী কিডনি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তার দুটি কিডনিই প্রায় বিকল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা না করা গেলে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপন ও পরবর্তী চিকিৎসার বিপুল ব্যয় বহন করা সাদিয়ার পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাদিয়ার চিকিৎসার জন্য সহায়তার আবেদন জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

প্রিয় ছাত্রীর এই দুর্দশার খবর শিক্ষক মুহাম্মদ আব্দুল হামিদকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। শিক্ষার্থীর জন্য বড় কোনো আর্থিক সহায়তা করার সামর্থ্য না থাকলেও তিনি বসে থাকেননি। নিজের শখের সংগ্রহ থেকে বেছে নিয়েছেন এমন কিছু, যা বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সাদিয়ার চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে।

কবুতর পালন মুহাম্মদ আব্দুল হামিদের দীর্ঘদিনের শখ। সংগ্রহে থাকা দুর্লভ ও পছন্দের কবুতরগুলোর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত আবেগও জড়িয়ে আছে। কিন্তু সেই প্রিয় জিনিসই যখন একজন শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচানোর কাজে আসতে পারে, তখন আব্দুল হামিদের কাছে সেটিই হয়ে উঠেছে ত্যাগের সামান্য মূল্য।

তার ভাষায়, নিজের শখের জিনিস বিক্রি করে যদি সাদিয়ার কিডনি প্রতিস্থাপনে ‘কিছুটা কাজে আসে’, তাতেই তিনি সন্তুষ্ট।

এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি শুধু একজন অসুস্থ শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেননি, বরং সমাজের অন্যদের প্রতিও একটি বার্তা দিয়েছেন—মানবিক সহায়তা সব সময় বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে শুরু করতে হয় না। যার যতটুকু সামর্থ্য, সেটুকু নিয়েই একজন মানুষের জীবন রক্ষার চেষ্টায় পাশে দাঁড়ানো যায়।

শিক্ষকের আবেগঘন পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। একজন শিক্ষক তার ব্যক্তিগত শখের জিনিস বিক্রি করে শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—বিষয়টি অনেকের কাছেই মানবিকতার অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।