amadermuktokantho
চট্টগ্রামসোমবার , ১ জানুয়ারি ২০২৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ঢাকার আকাশে আতশবাজি-ফানুসের অন্তরালে এক বিভীষিকাময় রাত

মো.রাইসুল ইসলাম, জবি প্রতিনিধি
জানুয়ারি ১, ২০২৪ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কালের পরিক্রমায় পুরাতন বিদায় নিয়ে নতুনের আগমন, জীবনের এক অমোঘ সত্য। পুরোনো বছরের সমস্ত চাওয়া- পাওয়ার হিসেব চুকিয়ে মানুষ আশা বাধে এক নতুন বেলার। কিন্তু নতুনের সাথে শুরুতেই জড়িয়ে যায় এক কালবেলার বিভীষিকা যার নাম আতশবাজি-ফানুস।

থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক নির্দেশনা জারি হয়, রাস্তায় ও প্রকাশ্য স্থানে কোন সমাবেশ, অনুষ্ঠান, নাচ, গান করা যাবে না। এছাড়া কোন জায়গাতেই আতশবাজি-পটকা ফাটানো ও ফানুস ক্রয়-বিক্রয় বা ওড়ানো যাবে না। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট প্রধান মোঃ আসাদুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন ‘ ডিএমপি কমিশন থেকে ইতোমধ্যে এই বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল। ফানুস ও আতসবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে’। এছাড়া তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডিএমপি কর্তৃক দেয়া নির্দেশনা নগরবাসী মেনে চলবে যাতে ফানুসকে কেন্দ্র করে কোন দূর্ঘটনা না ঘটে।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল অনেকটাই ভিন্ন। বেশির ভাগ মানুষের এই বিষয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ ছিল না। প্রকাশ্য স্থানে সহ বাসা-বাড়ি ও ইমারতের উপর জমায়েত হয়ে উচ্চ শব্দে গান বাজানো সহ রাত ১২টার সময় শুরু হয় আতশবাজি-পটকা ফাটানো। আতশবাজির শব্দে কেঁপে উঠে নগরীর আকাশ।

আতসবাজি-পটকা ও ফানুসের শব্দের তীব্রতা ও আলোকরশ্মি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ২০২২ সালের ১৪ই জুলাই ঢাকা ট্রিবিউনে হৃদরোগ বিষেষজ্ঞ ড. খালেদ মহসিনের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, ৬০ ডেসিবলের উপরের যে কোন শব্দ মানুষের সহ্য সীমার বাইরে বলে ধরা হয়। এমন শব্দ কানে গেলে মানুষের হৃদস্পন্দনের গতি, রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে এবং ঘুমের মধ্যে হার্টএট্যাক হতে পারে। আর সেখানে আতশবাজি-পটকার তীব্রতা ১৫০-১৭৫ ডেসিবল, যা সহ্যসীমার
থেকে অনেক বেশি। এছাড়াও নগরের পশু-পাখির জন্য উচ্চ শব্দের বাজি অত্যন্ত ক্ষতিকর। পাখিরা বিহ্বল হয়ে উড়ার সময় আঘাত পেয়ে মারা যায়, কুকুরের মানসিক ভ্রারসাম্য হারিয়ে পাগল হয়ে মানুষকে কামড়ে দিতে পারে যা রেবিস সংক্রমণের মাত্রা বাড়াবে।

এছাড়াও রাজধানীর পুরাতন ঢাকার নাজিরা বাজার এলাকায় রাত ১২টা ৩৩ এ ফানুস থেকে গোডাউনে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অপর একটি ঘটনায় কামরাঙ্গির চরে নতুন বছর উদযাপন করতে গিয়ে কেরোসিন নিয়ে আগুন জ্বালানোর সময় দগ্ধ হয় শিশু সিয়ম সহ আরো দুইজন। পরে তাদের শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়। সিয়ামের শরীরের প্রায় ৯৫ ভাগ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকেরা জানান, প্রতি বছরের শুরুতে আতসবাজি-ফানুস ফাটানোর কারণে চোখ নষ্ট, কান বধির ও হাতের হাড় ক্ষয় হয়ে পঙ্গু হয়ে যাবার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ এছাড়াও ফানুস থেকে আগুন লেগে সম্পদের ক্ষতি সহ নানান ভাবে বিপাকে পড়ছে সাধারণ জনগণ। মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য আতসবাজি,পটকা সহ যাবতীয় নান্দনিক সরঞ্জাম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দেন তারা৷

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।