amadermuktokantho
চট্টগ্রামমঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রবাসে থাকার সুযোগে প্রবীণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই জমি দু’বার বিক্রির অভিযোগ: প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন, তদন্তে প্রশাসন

সংবাদ সম্মেলন
আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৬:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

একই জমি দু’বার বিক্রি ও প্রবাসীর জমি জোরপূর্বক দখল করার এক গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর নারায়ণহাট কলেজের সাবেক প্রিন্সিপ্যাল জহুরুল ইসলাম হোসাইনির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিকার এবং নিজের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) সকালে নারায়ণহাটের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মো: মোহরম আলী ও তাঁর পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ এরশাদুল হাসান, মোহাম্মদ সাহেদুল, মোহাম্মদ মুরাদ ও সালাউদ্দিন।

এদিকে এই জালিয়াতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস হয়ে বর্তমানে নারায়ণহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মোহরম আলী জানান, বিগত ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণহাট কলেজের সাবেক প্রিন্সিপ্যাল জহুরুল ইসলাম হোসাইনির থেকে ২৯৩৭ নং রেজিস্ট্রি সাফ-কবলা দলিল মূলে ১২ শতক জায়গা কিনেন। রেজিস্ট্রি দলিলে জায়গাটির সঠিক চৌহদ্দি এবং হাত নকশায় সীমানা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। দলিল তৈরীর পর মোহরম আলী জমিটি নিজের নামে যথাযথভাবে নামজারী (মিউটেশন) ও খতিয়ানভুক্ত করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। বিক্রেতা নিজে একজন সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করে তাঁকে সরেজমিনে দখল বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

ঘটনার মোড় ঘোরে মোহরম আলী জীবিকার তাগিদে প্রবাসে অবস্থানকালীন সময়ে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ১ নং বিবাদী জহুরুল ইসলাম হোসাইনি প্রথম বিক্রির তথ্য গোপন করে সম্পূর্ণ বেআইনি ও জালিয়াতির আশ্রয়ে ওই ১২ শতক জায়গা পুনরায় এলাকার মৃত ছিদ্দিক আহমদের ছেলে আবুল কাসেমের কাছে বিক্রি করেন।

মোহরম আলী প্রবাস থেকে দেশে ফিরে এসে দেখতে পান যে, তাঁর দীর্ঘদিনের দখলীয় জায়গা আবুল কাসেম ও তাঁর কিছু অসাধু সহযোগী জোরপূর্বক দখল করে চারপাশে ঘেরা/বেড়া নির্মাণ করে রেখেছে। এ বিষয়ে দ্বিতীয় ক্রেতা আবুল কাসেমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রিন্সিপ্যাল জহুরুল ইসলামের কাছ থেকে কেনার দাবি করলেও কোনো দলিল দেখাতে ব্যর্থ হন। উল্টো বৈধ কাগজপত্রধারী মালিক মোহরম আলীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে, ভুক্তভোগী মোহরম আলী মূল বিক্রেতা জহুরুল ইসলাম হোসাইনির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি সমাধানের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো অসদাচরণ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধি মেম্বাররা বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে একাধিকবার শালিসী বৈঠক ডাকলেও প্রতিপক্ষ সিন্ডিকেট তা অমান্য করে বৈঠকে অনুপস্থিত থাকে এবং কালক্ষেপণ করতে থাকে। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সদস্য ও ভুক্তভোগী পরিবার আরও জানান, তাঁরা নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইউএনও কার্যালয় থেকে বিষয়টি আমলে নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তথা এসিল্যান্ড অফিসে পাঠানো হয়। বর্তমানে নালিশী ভূমির মালিকানার সঠিকতা ও সরেজমিন পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নারায়ণহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে।

বর্তমানে দখলদার চক্রটি দলবদ্ধ হয়ে উক্ত জায়গায় আরও স্থায়ী স্থাপনা বা পাকা ঘেরা নির্মাণ করে জমির স্বত্ব সম্পূর্ণ নস্যাৎ করার পাঁয়তারা করছে। যেকোনো সময় এই জমি নিয়ে এলাকায় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই অবস্থায় ভুক্তভোগী প্রবাসী মোহরম আলী তাঁর বৈধভাবে ক্রয়কৃত এবং নামজারীকৃত সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করে ফেরত পাওয়ার জন্য এবং চলমান প্রশাসনিক তদন্ত সাপেক্ষে ভূমিদস্যু চক্রের হাত থেকে নিজের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এদিকে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাবেক প্রিন্সিপ্যাল জহুরুল ইসলাম হোসাইনি মুঠোফোনে বলেন- আমি ১২ শতক জায়গা বাদ দিয়ে আমার বাকি জায়গা বিক্রি করেছি। এখন মোহররম আলি তার জায়গা সে দখলে রাখতে না পারলে আমি কি করবো?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।