মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এই দুই ঈদে আনন্দে মুখরিত হয় পুরো মুসলিম বিশ্ব। এই দুই ঈদের জন্য অধীর আগ্রহে থাকে সবাই।
সবাই তাদের নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ করার জন্য বিভিন্ন শহর( ঢাকা,চট্টগ্রাম, খুলনা) সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসে তার নিজর আবাসস্থল দেশের বাড়িতে।
এই যাত্রা পথে তাদের মাধ্যম হয় বাস,ট্রেন এবং উড়োজাহাজ। তবে উড়োজাহাজে বাসায় যাওয়ার সৌভাগ্য কয়জনের বা হয়। অধিকাংশ লোকের যাতায়াত মাধ্যম হয় বাস এবং ট্রেন। তবে ঈদে সবার যাত্রা তাদের আনন্দ বয়ে আনে না।কিছুক্ষেত্রে বয়ে আনে দুঃখের পাহাড়। ঈদের সময়ে বেড়ে যায় বাসের দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনায় অনেকে প্রান হারায় অনেকে আহত হয়।
আজ ২০ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জের ষোলঘরে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়াগামী পদ্মা ট্রাভেলস মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের সাথে সংর্ঘষে নিহত হয় ৭ জন। ঘটনাস্থলে ২ জন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৫ জন। আহতদের মধ্যে ১৮ জনকে শ্রীনগর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।গত তিনদিন আগে ঘটনা। কুমিল্লাতে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল।এত বাস দুর্ঘটনার প্রধান কারন হলো ড্রাইভারদের বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো।
ঈদের সময় আসলে তারা যেন মাতাল হয়ে গাড়ি চালায়। আবার ঈদের সময়ে বেড়ে যায় লাইসেন্স বিহীন চালকের সংখ্যা, যা দুর্ঘটনার একটি বড় কারন। ড্রাইভাররা কিছু সময় আগে গন্তব্যস্থলে পৌছানোর জন্য বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালায়। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন করাও দূর্ঘটনার কারন। আমরা যদি গন্তব্যস্থলে ৩০ মিনিট বা ১ ঘন্টা পরেও পৌছায় তাহলেও আমাদের আহামরি কোন ক্ষতি হবে না। কথায় আছে একেবারে না ফেরার চেয়ে দেড়িতে ফেরা উত্তম। এতে করে বেঁচে যাবে আমাদের অনেকের প্রান এবং ঈদ কাটবে অনেক আনন্দের সাথে। একটু সচেতনতায় বেড়ে যাক সবার ঈদ আনন্দ। বাস, ট্রেনে আরোহনকারী সবার প্রতি আহ্বান নিজ জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। তাই সবাই যেন তাড়াহুড়ো না করে নিজেকে গুরুত্ব দেই। নিরাপদ হোক এবারের ঈদ যাত্রা সেই প্রত্যাশা রইলো। ঈদ মোবারক।
লেখক :নাজমুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

