ফটিকছড়িতে বসতবাড়িতে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে হত্যা, লাশ গুম ও বসতবাড়ি দখলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরীন হীমার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আসামিরা। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন—ফটিকছড়ির উত্তর ধুরুং এলাকার আবু ছালেক (৪৫), দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া এলাকার মো. হোসাইন চৌধুরী (৪২), দক্ষিণ পাইন্দং এলাকার মো. সেনাউল করিম (৪০) ও লেলাং এলাকার আবু তাহের মুহুরী (৪৮)। আবু ছালেকের বিরুদ্ধে আর আগেও ভূমিদুস্যুতা দায়ে জিআর মামলা নম্বর ১৬৬, তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ এবং জিআর মামলা নম্বর ১৮৩, তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৪ নং মামলা রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুদ অর রশিদ চৌধুরীর বাড়িতে চার আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জন প্রবেশ করেন। তাদের হাতে দা, লোহার রড, কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়িতে প্রবেশের পর তারা মাসুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে মাসুদকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তার বোন সায়রা আক্তারকেও চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়।
এ সময় মাসুদসহ পরিবারের সদস্যদের বসতঘরে আটকে রেখে বাড়ির গেটের দেওয়াল, গেটের তালা ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা মাসুদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা, লাশ গুম এবং বসতবাড়ি দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পরও অভিযুক্তরা বাড়ির সামনে মহড়া দিয়ে হুমকি-ধমকি অব্যাহত রাখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছেন বাদী। ঘটনার দুই দিন পর, ৯ সেপ্টেম্বর ফটিকছড়ি থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মাসুদ চৌধুরী।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, উল্লেখিত জমি নিয়ে গত ৪৫ বছর ধরে মামলা চলমান রয়েছে। ওই জায়গায় বাদীপক্ষ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে—এমন তথ্য উল্লেখ করে এসিল্যান্ডের প্রতিবেদনও রয়েছে। একইসঙ্গে ওই জমিতে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের।
অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আসামিরা বিভিন্ন সময়ে বাদীপক্ষের বাড়িতে হামলা, হয়রানি এবং তাদের বেদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী মোহাম্মদ মাসুদ চৌধুরী বলেন, আসামিরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় নিয়ে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার দিন সকাল ৭ টার দিকে আসামিরা তাদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে হামলা চালান। এ সময় দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। তারা প্রায় অর্ধশত বছর ধরে পৈতৃক ভিটাবাড়ি ও পুকুরে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

