amadermuktokantho
চট্টগ্রামমঙ্গলবার , ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে জবি ক্যাফেটেরিয়ার খাবার

জবি প্রতিনিধি:
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অভিযোগ উঠেছে। ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘরের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ছবিতে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘরের মেঝেতে বড় পাত্রে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই স্থানে কর্মীদের খাবার প্রস্তুত কারো বাসনের উপর পা রাখা সহ বসে থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও রান্নার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীও মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এমন পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

 

এদিকে বিষয়টি ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মাসুদ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত বিব্রতকর। আমার কর্মচারীরা এভাবে খাবার প্রস্তুত করছে—এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। হঠাৎ কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, সেটিও আমার বোধগম্য নয়। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পরবর্তীতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি খাবারের মান ও অন্যান্য সমস্যাগুলোও সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, “বিষয়টি দেখার পর আমরা ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মাসুদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিব্রতকর হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকে এ ধরনের বিষয় আর দেখা যাবে না। খাবারের মান ও অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়েও তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। খাবারের মান আরও উন্নত করার জন্য আমরা ক্রমাগত চেষ্টা করছি। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার সাশ্রয়ী রাখতে গিয়ে বিষয়টি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আজকের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ দৃষ্টি থাকবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক রিফাত হাসান বলেন “আমরা আসলে ছবিটা দেখেছি। তবে ছবিটি এআই জেনারেটেড কি না, নাকি সত্যিকার ছবি এবং ঘটনাটি বাস্তবে ঘটেছে কি না—এগুলো আমরা আগে তদন্ত করে দেখব। যদি ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের একটি খাদ্যের মান ও উন্নয়ন কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। যেভাবে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে, তা খুবই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত হাবিব বলেন, “আসলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কপালে যেন দুঃখ ছাড়া আর কিছুই নেই। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাচ্ছি, সেটার মান ও প্রস্তুতপ্রক্রিয়া নিয়ে যদি এমন প্রশ্ন ওঠে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা চাই, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহাবুবুর রহমান ক্যাফেটেরিয়ার পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট দেন । তিনি পোস্টে লেখেন, “দেখেই বমি আসতেছে! কী খাচ্ছি দৈনিক আমরা জবিয়ানরা?? খাবারের উপর এমনে পা রাখছে ছিহ ছিহ!” একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে এর দায়ভার কে নেবে—এমন প্রশ্ন তুলে ক্যাফেটেরিয়ার খাবার বয়কটের আহ্বানও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকার প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে তারা নিয়মিত পড়াশোনা করেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার প্রস্তুতের পরিবেশও যদি অস্বাস্থ্যকর হয়, তাহলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয়। প্রতিদিনের খাবার নিয়ে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের পরিবেশ দ্রুত স্বাস্থ্যসম্মত করা, নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।