চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্যোগে ‘বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস-২২’ উদযাপন করা হয়েছে।
প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হল- জলাতঙ্ক রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা এবং তাদের এই রোগ সম্পর্কে সতর্ক করা। কারণ এটি শতভাগ প্রাণঘাতী হলেও শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য।
বুধবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. তৌহিদা আহসানের সঞ্চালনায় ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. আমির হোসাইনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. টিপু সুলতান ও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন
জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিবেশ স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম আব্বাস জলাতঙ্ক দিবসের বৈজ্ঞানিক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা আমাদের দেশে সাধারণত কুকুর, শেয়াল, বেড়াল, বানর, বেজি প্রভৃতি প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়। এটি এক প্রাণী থেকে আরেক প্রাণীর দেহে লালা বা রক্তের দ্বারা স্থানান্তরিত হয়। বিশ্বের প্রায় ১৫০টির ও অধিক দেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব কম-বেশি দেখা যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৭ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ৬০ হাজার মানুষ জলাতঙ্কে মারা যায়। যার ৯৫ শতাংশই এশিয়া ও আফ্রিকায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৯ ভাগ জলাতঙ্ক কুকুর দ্বারা হয়ে থাকে। জুলাই ২০২২-এর একটি আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে বাংলাদেশে ২১০০ এর বেশি মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। যার প্রায় ৬২ শতাংশ শিশু এবং ৮৭ শতাংশই পল্লী অঞ্চলের।
তাই জনসাধারণের মাঝে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি খুব জরুরি। এ বছর জলাতঙ্ক দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হল- সকল সেক্টর সমন্বিতভাবে কাজ করে ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্কে মৃত্যুর হার শূন্য শতাংশে নিয়ে আসা। বাংলাদেশে শুধুমাত্র ইনসেপটা ফার্মাসিউটিকেলস র্যাবিস ভ্যাক্সিন বাজারজাত করে আসছে।

