প্রতিদিন দাঁড়িয়ে আট ঘণ্টা কাজ করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নাঈমা কানিজ। বিকাল ৪ টায় ডিউটি সবে শুরু হয়েছে, চলবে রাত ১২টা অবধি। চারপাশে সজোরে ছুটে চলা বাস আর অসংখ্যা মানুষের ভিড়ে প্রকৌশলী নাঈমা কানিজকে পাওয়া গেল অল্প সময়ের জন্য। কথা বলে জানা গেল, তিনি একজন মা। তাঁর তিন বছরের ছোট্ট একটি ছেলে রয়েছে। নাম সোনাই। বাচ্চার বয়স যখন তিন মাস, তখন থেকেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছেন তিনি। কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আনন্দ নিয়ে কাজ করেন মেট্রোরেলের কর্মরত এই নারী ইঞ্জিনিয়ার।
আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন নাঈমা কানিজ। ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিল্ডিং ডেভেলপার কোম্পানিতে কর্মজীবন শুরু। ২০১৬ সালের জুন থেকে যুক্ত আছেন মেট্রোরেলের প্রজেক্টে। বর্তমানে সাইট ইন্সপেক্টর হিসেবে মেট্রোরেল লাইন ফাইভে (উত্তর) কাজ করছেন।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিন পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে আট ঘণ্টা কাজকে কোনো অসুবিধাই মনে হয় না তাঁর। কেননা কাজটা তিনি করেন ভালোবেসে। কানিজ বলেন, ‘পরিবার ও আমার সহকর্মীরা সহযোগিতা না করলে এখানে কাজ করা সম্ভব হতো না। যতক্ষণ ফিল্ডে থাকি, কখনোই নিজেকে অনিরাপদ মনে হয় না।
কানিজ যখন কাজ শুরু করেছেন, সেই সময়ের তুলনায় এখন মাঠপর্যায়ে নারী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানান তিনি। আরও বলেন, এ ধরনের মেগা প্রজেক্ট দেশে থেকেই জাপানের প্রযুক্তিগত শিক্ষা পাওয়ার বড় সুযোগ। চাইলেই অনেক নারী ইঞ্জিনিয়ার সুযোগটা নিতে পারবেন। তবে শর্ত একটাই, কষ্ট করার মানসিকতা থাকতে হবে।

