বছরের সবসময়ই কোন না কোন সবজির উৎপাদন হলেও ষড়ঋতুর আবর্তে বাংলাদেশে শীতকালই মোক্ষম সময় সবজির জন্য।
খাদ্যের উপাদানের মধ্যে ভিটামিন ও মিনারেলসের অন্যতম উৎস হল শাক-সবজি ও ফলমূল। মূলত ভিটামিন ও মিনারেলস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে এবং আমাদের শরীরকে খাদ্যের শর্করা, আমিষ ও চর্বির ব্যবহারে সাহায্য করে। অর্থাৎ আমাদের শরীর রক্ষায় শাক-সবজি ও ফলমূলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
আমরা যদি কয়েকটি সবজির কথা বলি যেমন, বাঁধাকপিতে রয়েছে ভিটামিন-সি ও প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। শরীরের হাড় শক্ত ও মজবুত রাখতে এবং ওজন কমাতে বাঁধাকপির জুড়ি নেই। তাছাড়া বাঁধাকপি আলসার প্রতিরোধে সক্ষম।
শাকের কথা যদি বলতে হয় তাহলে,
পুষ্টিগুণে লালশাক ও পালংশাক অন্য শাকগুলোর তুলনায় একটু এগিয়ে। প্রতি ১০০ গ্রাম লালশাকে রয়েছে প্রায় ৩৮০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম; অন্যান্য পুষ্টিগুণও অন্য শাকের তুলনায় লালশাকে বেশি। আর পালংশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, আয়রন ও ফলিক এসিড, যা আমাদের দেহের জন্য জরুরি। পালংশাক আমাদের শরীরে আর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ ছাড়াও হৃদরোগ এবং কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
মূলা আমাদের শরীরের রক্ত পরিশোধের কাজ করে,রক্তের বিলিরুবিন ঠিক রাখে,ওজন কমাতে সাহায্য করে। যদিও এই সবজিটি অনেকের পছন্দ নয়।
এতোসব পুষ্টিগুণ থাকলেও শাকসবজি নিয়ে দেখা দিয়েছে শংকা।এই শাকসবজি গুলো গ্রামে উৎপাদন হয়। উৎপাদনের সময় অধিক ফলনের আশায় কৃষকরা ব্যবহার করেন মারাত্মক ক্ষতিকর কীটনাশক। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কোনভাবেই উপকারী নয়। উৎপাদন শেষে এই শাকসবজি গুলোর
শহরে আসতে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ এক পথ। সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় পাইকাররা এই শাকসবজিতে মেশান ফরমালিন।যা অনেক আগে থেকেই আতংকের বিষয়।
ফরমালিন নিয়ে দেশের মানুষ এখনও আতঙ্কিত। বাজারে ফল, সবজি ও মাছ কিনতে গেলে ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। অনেকেই ভাবেন, টাকা দিয়ে ফল ও মাছ কিনছি, নাকি শরীরে বিষ ঢোকানোর ব্যবস্থা করছি!
এ যাত্রায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ঢাকার চারপাশের নদী-নালার পানির বিষাক্ত উপাদান।ঢাকার চারপাশের যত নদী-নালা তার সবগুলোয় অত্যাধিক মাত্রায় দূষিত।কিন্তু এই পানিতেই গ্রাম থেকে শাকসবজি এনে অনায়াসেই ধোয়া হচ্ছে। এখান থেকে বিষাক্ত উপাদানগুলো ছড়িয়ে পড়ছে মানব দেহে। যার ফলে ডায়রিয়া,আমাশয়,কলেরা,স্কীন বিভিন্ন রকম চুলকানি, দাদ ইত্যাদি দেখা দিচ্ছে। এছাড়াও এমন বিষাক্ততার ফলে দীর্ঘমেয়াদে হার্ট,কিডনিজনিত সমস্যা কিংবা ক্যানসারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে মানুষকে।
এটি হচ্ছে বেশকিছু কারণে। তার মধ্যে অন্যতম সচেতনহীনতা।যারা এই শাকসবজির পাইকার তাঁরা মূলত অশিক্ষিত কিংবা অর্ধশিক্ষিত।তাঁরা এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেন নয়। এছাড়াও অল্পকষ্টে অধিক মুনাফার আশায় এমন ঝুকিপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন এই ফল ও শাকসবজি বিক্রেতাগণ।
এ সমস্যা দূরীকরণে আমাদের অতিশীঘ্রই পদক্ষেপ নিতে হবে।দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
দীর্ঘ মেয়াদে এ সমস্যা দূরীকরণের জন্য শিক্ষিত বেকার সমাজকে নিতে হবে ফল, সবজি কিংবা এমন খাদ্য উৎপাদন উদ্যোগ।আমাদের সমাজে অনেক শিক্ষিত বেকার রয়েছেন যারা বিভিন্ন রকম উদ্যোগ গ্রহণ করতেও ইচ্ছুক। তবে সামাজিক মর্যাদা নিম্মমূখী হওয়ার ভয়ে তাঁরা এসকল উদ্যোগ নেয়া থেকে বিরত থাকছেন।যার ফলে অশিক্ষিত,অসচেতন অধিক মুনাফা লোভী ব্যক্তিরা এসকল জায়গা দখল করে খাদ্যের সাথে আমাদেরকে বিষ সরবরাহ করছেন।
এ প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সমাজের উচিত শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীকে জায়গা করে দেয়া।এতে ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে রাষ্ট্র সবাই উপকৃত হবে।কেননা, সুস্থ সমাজ গড়ার জন্য ব্যক্তিকে সুস্থ থাকতে হবে।আর ব্যক্তির সুস্থতার জন্য নিরাপদ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার গ্রহণ অপরিহার্য।
লেখক:
এইচ এম তৌফিকুর রহমান
শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

