কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদে প্রভাবশালী রমজান ও নুইছার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনীর অনেক সদস্য পাহাড় দখল করে বসতি গড়ছে। শুধু তাই নয়, তারা বিক্রি করছে দখলস্বত্ব পাহাড় কেটে মাটি। তাদের স্থানীয় কোন পেশা না থাকলেও বন কর্মকর্তা ম্যানেজ করার নামে অর্থ হাতিয়ে রহস্যজনকভাবে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যান এ পাহাড়খেকো।
পাহাড় কাটার মাটি ট্রাক বোঝাই করে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশে পাহাড় নিধন চালাচ্ছেন। এতে বনাঞ্চল উজাড়ের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও ধ্বংস হচ্ছে।
সোমবার ২৩ জানুয়ারী বিকালে বর্ণিত ইউনিয়নের পূর্ব বোয়াল খালী এলাকায় কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের নাপিতখালী বিটের আওতাধীন এলাকায় লেদু নামের ব্যক্তির দখলস্বত্ব মালিকানাধীন পাহাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব বোয়াল খালী এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী ছাবের ছেলে রমজান ও ইসলামপুর ইউনিয়নের হাজী পাড়া এলাকার মৃত নজির আহমেদের ছেলে নুরুল ইসলাম (প্রকাশ) নুইছার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য ১০-১২ জন লোক পাহাড় কাটছেন। কিছু লোক পাহাড় কাটার মাটি ট্রাকে বোঝাই করছেন। এ সময় বন বিভাগের কাউকে এলাকায় দেখা যায়নি।
পাহাড় কাটার একাধিক শ্রমিক জানান,রমজান ও নুইছার নামের ব্যক্তি তাঁদের দিনে ৫০০ টাকা মজুরিতে নিয়োগ দিয়েছেন। এক মাস ধরে তাঁরা পাহাড় কাটছেন। কেউ বাধা দিচ্ছে না।
ফুলছড়ি রেঞ্জের প্রায় সরকারি পাহাড়ের সব ক’টিই এখন দখলদারদের দখলে। পরিবেশ অধিদফতর কাউকে কাউকে জরিমানা করছে বটে, কিন্তু তাতে বন্ধ হচ্ছে না পাহাড় কাটা। জরিমানা দিয়ে অনেকে পুনরায় পাহাড় কাটছে এমন দৃষ্টান্তও রয়েছে। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, জরিমানা দেয়া মানে পাহাড় কাটার বৈধতা পাওয়া।
নির্বিচারে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন এবং বন-জঙ্গল ও গাছপালা উজাড় করার কারণেই ঈদগাঁও উপজেলায় ঘনঘন পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের গায়ে জন্মানো বন-জঙ্গল ও গাছপালা এর অভ্যন্তরীণ বন্ধন মজবুত রাখে। পাহাড় কাটার কারণে সেই বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে পাহাড় ধসের পথ সুগম হয়। পরিণতিতে প্রতিবারই প্রাণ হারায় মানুষ। বস্তুত কিছু মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডের দরুন প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে।
পাহাড়খেকোদের কবলে পড়ে কেবল নিশ্চিহ্ন হয়েছে প্রায় কয়েকটি পাহাড়। সেই সঙ্গে ঈদগাঁও উপজেলায় অন্তত ১০/১৫ টি পাহাড় ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে আছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে শুধু পাহাড় ধস নয়, এর ফলে একদিকে ঈদগাঁও উপজেলা নগরী দিন দিন শ্রীহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে পাহাড় থেকে নেমে আসা বালিতে নগরীর নালা-নর্দমা ভরাট হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে রমজান জানান,পাহাড় কাটিয়ে মাটি বিক্রি করলে আপনাদের কি সমস্যা। যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে ফিরুজের অফিসে যোগাযোগ করুন।নুরুল ইসলাম বলেন,পাহাড়ের মালিককে প্রতি গাড়ী মাটির দাম ১শ টাকা দিয়ে সব কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পাহাড় কাটাছি।আমাদের বিরুদ্ধে নিউজ করে কোন লাভ হবে না।আমাদের হাত অনেক লম্বা।
পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে নাপিত খালী বিট কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন,ঐ এলাকা আমার এরিয়ার বাহিরে তাই আমার কিছু করা সম্ভব হবে না।
পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তিনি মুঠোফোন কেটে দেওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পাহাড় কাটার বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকারিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, পাহাড়খেকো ভূমিদস্যু যেই হউক না কেনো ছাড় দেওয়া হবে না।দ্রুত পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
আপনি লিখিত অভিযোগ দিয়ে যান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে গাড়ী নিয়ে তদন্তে যাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মুছাফিজুর রহমান।
এলাকাবাসী জানান, ভূমিদস্যুরা শুধু বনজ সম্পদ ধ্বংস করছেনা, তাদের মাটি এবং বালি বাহি ডাম্পারের বেপরোয়া চলাচলে সরকারের কোটি টাকায় নির্মিত এলাকার রাস্তাঘাট ধ্বংস করে ফেলছে প্রতিনিয়ত।তাই বনজসম্পদ রক্ষার স্বার্থে সরেজমিনে সত্যতার জন্য কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার জরুরি পরিদর্শন কামনা করেছেন।
অবশিষ্ট বনজ সম্পদ রক্ষায় বনখেলোদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যাবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

