মিথ্যা মামলায় হয়রানি ভাংচুর ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদের সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলা সদরে হারুন চৌধুরীর বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে মামুন অর রশিদ চৌধুরী পলাশ। তিনি বলেন, আমার বাবার ক্রয় করা ভিটেবাড়ি পুকুরে অবৈধভাবে প্রবেশ করে জনৈক মোহাম্মদ ইয়াছিন গং জবর দখলের চেষ্টা, ভাংচুর, পুকুরের মাছ লুট, গাছপালা লুটসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। তারা রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে আমাদের বাড়ির গেইট, সিসি টিভি ক্যামেরা ভাংচুর করে আমাদের জয়গার উপর দেওয়াল দেওয়ার চেষ্টা চালায়। জাল দিয়ে পুকুরে মাছ ধরে নিয়ে যায়, পুকুর পাড় ও আমাদের জায়গার উপর থেকে গাছ কেটে লুট করে নিয়ে যায়। পরে থানা পুলিশের মাধ্যমে তা বন্ধ করা হয়।
মামুন অর রশিদ চৌধুরী বলেন, ১৯৭৩ সালে স্বাধিনতার পর আমার বাবা আমাদের বাড়িভিটের পাশের জায়গা ( ভিটে ও পুকুরসহ) ক্রয় করেন। সেসময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় কাগজপত্র ঠিক করা হয়নি। সে সময় ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে জায়গাটি মৌখিক বায়নার মাধ্যমে বিক্রি করার পরও বেশ কয়েক বছর পর জায়গা বিক্রেতা (ওই লোক) জায়গাটি ভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু আমাদের দখলীয় থাকায় ভিন্ন লোকেরা জায়গাটি দখল দিতে পারেননি। পরবর্তীতে আদালতে একটি মামলায় তাদের উক্ত দলিল বাতিল করে আমার বাবার পক্ষে রায় ডিগ্রি প্রদান করেন। সে সময় তাদের নামের বিএস খাতিয়ানর সৃজন হয়নি।
স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমার বাবার ক্রয় করা এ জায়গার উপর এসে আর কেউ দাঁড়াতে পারেনি। তামাদি আইনে জায়গাটি আমাদের পক্ষে খতিয়ান হওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও হাইকোর্টের একটি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে। বিভিন্ন সময় আরও বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত আমাদের পক্ষে রায় রয়েছে।
অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় যে, গত ৫ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ইয়াছিন গং আমাদের জয়গার উপর এসে ভাংচুর ও অত্যাচার চালায়, গাছ ও মাছ লুট করেছে তারা। আমাদের উপর মিথ্যা মামলা দেয়। আমরা নিরীহ ভাইসহ আমাদের পরিবার সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে।
গত ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ফটিকছড়ির সহকারি কমিশনার (ভূমি) তিনপক্ষ একত্রিত করে একটি মামলায় শুনানি করেছেন। তিনি সে সময় বলেছিলেন, ইয়াছিনরা সে সময় ১২ বছরের মধ্যে মামলা করেন নাই। তাই সম্পত্তি তামাদি হয়ে গেছে। এ তথ্যটা সবার কাছে আছে। কিন্তু সব কিছু গোপন করে ওই ইয়াছিন গং আমাদের জায়গা দখল করতে এসেছে।
এছাড়াও আমরা খতিয়াত সৃজনের জন্য মামলা করেছি। তারা সেখানে শুনানিতে যাচ্ছে না। জবর দখল করার চেষ্টায় রয়েছে তারা। এরা একের পর এক ফোজদারি মামলা করছে আমাদের উপর। হাইকোর্টের নোটিশ ছিড়ে ফেলেছে তারা। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা বহু নির্যাতিত, আমি ও আমার ভাইদের বিরুদ্ধে কোৎসা রটাচ্ছে ওই গং।
এদিকে সম্প্রতি বদলী হওয়া ফটিকছড়ির সাবেক ইউএনও অন্যায় ভাবে একদিনের মধ্যে আমাদের প্রতিপক্ষ গংদের একটি খতিয়ান সৃষ্টি করে দিয়েছেন। যা সম্পুর্ণ অন্যায়, আমরা এ খতিয়ানের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এ কাজ করেছেন বলে আমাদের প্রতিয়মান হয়। আমরা এ কাজের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মামুনুর রশিদ চৌধুরী পলাশের ছোট ভাই মাসুদ আর রশিদ চৌধুরী।
অভিযুক্ত মো. ইয়াসিন বলেন, ‘লুটের অভিযোগ সঠিক নয়। সন্ত্রাসী ও মামলা-হয়রানীর বিষয়টিও অমূলক। উল্টো তারাই আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আমি আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশা করছি।’
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

