amadermuktokantho
চট্টগ্রামরবিবার , ১ জানুয়ারি ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদগাঁওতে ফসলী জমি থেকে অনবরত টপসয়েল লুট, কমছে শস্য উৎপাদন, বাড়ছে খাদ্য সংকটের শংকা

আতিকুর রহমান মানিক
জানুয়ারি ১, ২০২৩ ১২:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলাব্যাপী ফসলী জমি থেকে টপসয়েল কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা। বিভিন্ন ফসলী বিলে শতাধিক ভেকু মেশিন (স্কেভেটর) দিয়ে রাতদিন চলছে এ মাটিকাটা। আবাদী জমি থেকে এভাবে টপসয়েল কেটে নেয়ায় উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে ফসলী জমিগুলো। এতে শস্য উৎপাদন কমে গিশে খাদ্য সংকটের শংকা প্রবল হচ্ছে।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়,
জালালাবাদ ইউনিয়নের ধমকা বিলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ফসলী জমির টপসয়েল কাটা হচ্ছে।
ডজনাধিক ভেকু মেশিন (এক্সেভেটর) ও শতাধিক ডাম্পার ট্রাক নিয়ে রাতদিন সমানতালে চলছে এ টপসয়েল কাটা। এতে ক্ষতবিক্ষত ও বিরানভূমিতে পরিণত হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে জেলার শষ্যভান্ডার খ্যাত ধমকা বিল। ক্রমাগত টপসয়েল কাটার ফলে জমির উর্বরা শক্তি কমে যাওয়ায় শষ্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এতে এতদাঞ্চলে খাদ্য ঘাটতির আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

এ ছাড়াও একই ইউনিয়নের পালাকাটা ও লরাবাক গ্রামের মধ্যবর্তী বিলের অন্ততঃ চার পয়েন্টে ১০/১২ টি এক্সেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ঈদগাঁও রাবারড্যাম রাস্তার মাথার অদুরবর্তী বিল ও পালাকাটা রেলক্রসিং এর পশ্চিমেও এক্সেভেটর দিয়ে টপসয়েল কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা।
দক্ষিণ লরাবাক-মোহনবিলা সংযোগ সড়কের দু পাশের বিলে ডজনখানেক এক্সেভেটর দিয়ে টপসয়েল কাটা হচ্ছে। টপসয়েল কেটে নেয়ায় জেলার শষ্যভান্ডারখ্যাত ধমকা বিল পরিণত হচ্ছে বিরান ভূমিতে।

ইসলামাবাদ ইউনিয়নের বোয়ালখালী বিল, ঈদগাঁও সদর ইউনিয়নের মাইজপাড়া ঝাইক্কা কাটা বিলেও চলছে একই কায়দায় মাটি লুট।
এভাবে সর্বত্র টপসয়েল লুটের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
কিন্তু কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে রাতেও শক্তিশালী ফ্লাডলাইট জালিয়ে টপসয়েল কাটা অব্যাহত রেখেছে ইটভাটা মালিকরা।
ফসলী জমি থেকে দিনরাত কেটে নেয়া এসব টপসয়েল শত শত ডাম্পার ট্রাকযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। আবাদী জমি থেকে টপ সয়েল কেটে নিয়ে পর্বতাকারের স্তুপ করা হয়েছে ইটভাটাগুলোতে।
এলাকাবাসী জানান, আইনের তোয়াক্কা না করে লোকালয়ের মাঝে ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে আবাদী জমিতে অবৈধ এসব ব্রিক ফিল্ড স্হাপন করা হয়েছে।

অনুমোদন ও পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন এসব ইটভাটা বিগত প্রায় ২ যুগ ধরে এলাকার পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস ও স্হানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্হ্যগত হুমকি সৃষ্টি করলেও সবসময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার এর উপ পরিচালক হাফিজুর রহমান ফোন রিসিভ না করায় এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া বলেন,
ফসলী জমি থেকে টপসয়েল কাটা বন্ধ করতে উপজেলার বিভিন্ন স্হানে রাতেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। টপসয়েল কাটা বন্ধে ফের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।