অবশেষে জিআই স্বীকৃতির জন্য যাচ্ছে কুমিল্লার মাতৃভান্ডারের রসমালাই। জিআই কোনো পণ্যের একটি নির্দিষ্ট উৎপত্তিস্থলের কারণে এর সুখ্যাতি বা গুণাবলী নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয় ।
বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক পন্য বা জিআই পণ্য হিসেবে অনুমোদনের জন্য যে ১৮টি পন্যের আবেদন করা হয়েছে তন্মধ্যে রয়েছে কুমিল্লার রসমালাই।
এদিকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম।এর আগে জামদানি, ক্ষীরসাপাতি ও ফজলি আম, ইলিশ, কালজিরা ধানসহ ১১ পণ্য বাংলাদেশী জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, “কুমিল্লা একটি ঐতিহ্যসমৃদ্ধ জেলা” কুমিল্লার রসমালাই, মৃৎশিল্প এবং খাদি কাপড়ের কদর সারা পৃথিবী জোড়া। রসমালাই যেন বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিল্পমন্ত্রনালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। শুনানি শেষে আমরা আশা করি স্বীকৃতি পাবো। মৃৎশিল্প এবং খাদিকে নিয়েও কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, কুমিল্লার রসমালাই জিআই পন্য হিসেবে স্বীকৃতি পাবার জন্য যেসব শর্ত মানতে হয়- তার সবগুলোরই আমরা ডকুমেন্টেশন করেছি। স্বীকৃতি পেতে আমরা দৃঢ় আশাবাদী ।
উল্লেখ্য, কুমিল্লায় এই এ মিষ্টান্নের রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী একমাত্র মিষ্টি দোকান মাতৃভাণ্ডারের যেখানে দীর্ঘ লাইন ধরে থাকেন ক্রেতারা। তবে কুমিল্লার বিশিষ্টজনেরা বলেন, কুমিল্লার রসমালাইয়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভেজাল মিশ্রিত করে মানহীন রসমালাই বানিয়ে মাতৃভাণ্ডার বা অন্যান্য দোকানের নাম ব্যবহার করে মহাসড়ক বা স্টেশন গুলোতে বিক্রি করেন। এর ফলে কুমিল্লার যে আসল রসমালাই তার সুনাম নস্ট হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের উচিত জিআই পণ্য হিসেবে রসমালাই স্বীকৃতি আদায়ের পাশাপাশি আসল মাতৃভান্ডারের সুনাম রক্ষায় ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা।
লেখক: আব্দুল্লাহ আল রাকিব
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

