amadermuktokantho
চট্টগ্রামসোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝুঁকিমুক্ত হবে ফটিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়ক ও কয়েকশ একর জমি : ধুরুং খালের ভাঙন রোধে চলছে দ্রুত জিও ব্যাগ স্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর আটারোটিলা এলাকায় ধুরুং খালের ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুতগতিতে জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছে। ভাঙ্গনকবলিত স্থানে মাটির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ডাম্পিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে শতাধিক বালুভর্তি জিও ব্যাগ। ভাঙ্গনরোধে এ উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে।

গত ২৫ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধুরুং খালের ভাঙনে ফটিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকির মুখে পড়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের দৃষ্টিগোচর হলে ভাঙ্গনরোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ আগস্ট ফটিকছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও নদীর তীর জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর স্বাক্ষরিত চাহিদাপত্র বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। পরে কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর ও পশ্চিম কাঞ্চননগর চরপাড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অংশের জন্য ৭ হাজার জিও ব্যাগ বাবদ ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কার্যাদেশ প্রাপ্ত হন
নুর উদ্দীন নুরুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুর এন্টারপ্রাইজ।

সরেজমিন মানিকপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গনকবলিত স্থানে মাটির কাজ শেষ করে ডাম্পিংয়ের জন্য বালুভর্তি জিও ব্যাগ প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক জিও ব্যাগ প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী এসব ব্যাগ পানির নিচে ডাম্পিং করে পিরামিড আকৃতিতে স্তূপ করা হবে। পরে জিওটেক্সটাইল ফিল্টার শিট বিছিয়ে সিমেন্ট-বালু মিশ্রিত জিও ব্যাগ ভাঙ্গনকবলিত অংশে পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হবে।

শুরু থেকে কাজের তদারকিতে থাকা কাঞ্চননগর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মোজাম্মেল হক তালুকদার, কৃষক দল নেতা কাজী ইসমাইল ও মো. আবছার জানান, কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা কাজের অগ্রগতি তদারকি করছেন। বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তারা। এ উদ্যোগের জন্য তারা সরকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

স্থানীয় কৃষক সোলেমান, মো. শফিউল আজম ও মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, দীর্ঘদিনের ভাঙনে খালসংলগ্ন কৃষিজমি ও সড়ক ঝুঁকিতে পড়েছিল। এখন ভাঙ্গনরোধে কাজ শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। বাঁধের কাজ সম্পন্ন হলে খালসংলগ্ন প্রায় ১০ কানি জমি, ফটিকছড়ি-কাঞ্চননগর হয়ে লক্ষীছড়ি যোগাযোগের প্রধান সড়কসহ কয়েকশ একর জায়গা ঝুঁকিমুক্ত হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. আরিফ বলেন, কিছুদিন আগে আমি নিজে কাজের স্থান পরিদর্শন করেছি। খালের পাড়ের মাটি সমান করার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ডাম্পিংয়ের জন্য জিও ব্যাগ প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। বালুভর্তি প্রতিটি জিও ব্যাগের ওজন প্রায় ১৮৫ থেকে ২০০ কেজি। কাউন্টিং করে এসব ব্যাগ খালের গর্ভে ফেলা হবে। ডাম্পিং শেষ হলে খালের পাড়ে জিও ব্যাগ বসানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

এর আগে বর্ষা মৌসুমে ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যায় ধুরুং খালের মানিকপুর আটারোটিলা অংশে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। দীর্ঘদিনের ভাঙ্গনে ওই এলাকায় কৃষিজমি ও স্থাপনা খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গন ক্রমে ফটিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়কের কাছাকাছি চলে আসায় যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

আব্দুল গণি বাদশা জানান, কয়েক বছর ধরে ধুরুং খালের ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি বর্ষায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ে। এতে কৃষিজমি হারিয়ে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে জমি ও সড়ক হারানোর আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ভাঙ্গনরোধে বরাদ্দ দিয়ে কাজ শুরু করায় আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ। দ্রুত কাজ শেষ হলে আমাদের কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি রক্ষা পাবে।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইদ মো. ইব্রাহিম বলেন, ইমার্জেন্সি মেইনটেন্যান্সের আওতায় কাঞ্চননগরের ধুরুং খালের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি স্পটে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে মানিকপুর অংশ। সড়কটি ফটিকছড়ির সঙ্গে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার সংযোগের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ রোড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি রক্ষায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজটি অত্যন্ত জরুরি ছিল। এর ফলে সড়কটি রক্ষার পাশাপাশি আশপাশের ফসলি জমি ও বসতবাড়িও ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে। উন্নয়নকাজে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ধুরুং খালের ভাঙ্গন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে ফটিকছড়ি-লক্ষীছড়ি সড়ক, বাইন্যাছোলা ব্রিজ ও আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।