amadermuktokantho
চট্টগ্রামমঙ্গলবার , ৯ এপ্রিল ২০২৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নতুন রূপে পুরাতন ঈদ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
এপ্রিল ৯, ২০২৪ ২:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে ইদুল ফিতর উদযাপন বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে।ধর্মীয় পরিভাষায় একে ‍ইয়াওমুল জায়েজ‍ বা পুরস্কারের দিবস হিসাবেও বর্ণনা করা হয়েছে৷ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার ও সামর্থ্য থাকলে ফিতরা, যাকাত দেওয়ার পর ইসলাম ধর্মাবলম্বী মুসলমানেরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্যপালনসহ খুব আনন্দের সাথে পালন করে থাকে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি অনুষদের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাভারের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ (নিটার) এর শিক্ষার্থীরা ও তার ব্যতিক্রম নয়। নিটারিয়ানরা ইদের শত ব্যস্ততার ভিড়েও তাদের ইদুল ফিতরের অনুভূতিগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছে।

“ঈদ আনন্দের একাল, সেকাল”

আমার কাছে ছোটবেলার ঈদ আর এখনের ঈদের মধ্যে অনেক পার্থক্য উপলব্ধ হয়। “ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” চাঁদরাতে এই গান শুনেই আমাদের ঈদ শুরু হয়ে যেতো। আগে বড়দের কাছে হাত পেতে মেহেদী দিতাম, এখন ছোটরা সামনে হাত পেতে বসে। আগে উদগ্রীব থাকতাম কে কী কী নাস্তা বানাচ্ছে ইদে, এখন প্রস্তুতি নিতে হয় আমি কী কী নাস্তা বানাবো। ঈদের আনন্দ আমার কাছে বেড়েছে বা কমেছে বলে মনে হয় না কখনোই, আনন্দের ধরণ বদলেছে কেবল। সালামি পাওয়ার দল থেকে আস্তে আস্তে সালামি দেওয়ার দলের সদস্য হয়ে উঠছি। এখনও সালামি পাওয়ার আগ্রহ সেই আগের মতোই আছে যদিও। কিন্তু তার বহিঃপ্রকাশ কমেছে আর কি৷ এখনো ঈদ আমার কাছে এক রাশ আনন্দ নিয়েই আসে। সবাইকে দেখার আনন্দ, সবার সাথে কয়েকটা দিন কাটানোর আনন্দ, বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার আনন্দ, শহরের খালি রাস্তায় বান্ধবী ও বোনদের সাথে ঘুরে-বেড়ানোর আনন্দ। আনন্দের ধরণ যেমনই হোক না কেন সবার উচিত নিজ নিজ অবস্থানে থেকেই ইদের আনন্দ উপভোগ করা।

শামীমাতুস সাবাহ্ মুগ্ধ
ডিপার্টমেন্ট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইন্জিনিয়ারিং, নিটার ১৩ তম ব্যাচ।

“আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্না ওয়া মিনকুম”

ঈদ অর্থ খুশি। আমাদের মুসলিমদের বছরে দুটো ঈদ যা আমাদের মাঝে সকল দু:খ হতাশা ভুলিয়ে উপহার দেয় একটি অসাধারণ মুহুর্ত। দিনগুলো পরিবারের সাথে না কাটালে যেনো অসম্পূর্ণ থেকে যায়।যে যেখানেই থাকি না কেনো একটি দিন পরিবারের সাথে কাটানোর জন্য ছুটে চলে আসি। যদিও ইদে বাড়ি ফেরা বাংলাদেশে বেশ ভোগান্তির তবুও স্বপ্ন বাড়ি যাবে সবার যেকোনো ভাবেই।

ঈদে বাড়ি ফিরলাম সেমিস্টার শেষ করে। এইবার একটু আলাদা একটা অনুভুতি আছে শিক্ষা জীবনের একটা নতুন প্ল্যাটফর্ম এ এসে পড়েছি, শেষ প্ল্যাটফর্ম ও বটে। অর্থাৎ তথাকথিত ভার্সিটি জীবনের প্রথম ঈদ।

প্রতিবারের ন্যায় আছে ফজর নামাজ আদায় করে ইদের দিন শুরু করবো ইনশাআল্লাহ।ঈদের নামাজে আমরা (ভাই,বাবা,চাচা) একসাথে যাই। নামাজ শেষ করে বাসায় ফিরে প্রতিবারের মতো ঈদের দিন স্কুলের বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াবো। এইবার ইনশাআল্লাহ নওগাঁ জেলার নিয়ামত উপজেলা ঘুঘু ডাঙা গ্রাম। ঘুঘু ডাঙার সৌন্দর্য সম্বন্ধে খুব বেশি জানা নেই তবে এখানকার তালতলা রোড বিখ্যাত। সন্ধ্যার মধ্যে জয়পুরহাট ফিরে পরবর্তীতে ফুফুদের বাসায় প্রতিবারের ন্যায় যাওয়ার নিয়ত আছে। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। এমন ইদ আমার জীবনে বারংবার আসুক।

রাশেদ সাদিক জিহান
ডিপার্টমেন্ট ফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, নিটার ১৩ তম ব্যাচ।

“ঈদ মানেই আমার কাছে অদ্ভুত সুন্দর কিছু মূহূর্ত”

আমার কাছে ই্দঈ মানে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর সকলেই একসাথে হয়ে কিছু মুহূর্ত কাটানো। আমার সবাই নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে থাকি, খুব কম সময়ই পুরো পরিবার একসাথে হতে পারি। কিন্তু ঈদ আমাদের সেই ব্যবস্থা করে দেয়। সবাই নিজেদর জায়গা থেকে গ্রামে একসাথে হই। নিজের দেশের বাড়িতে ইদের মজাই আলাদা।

ইদের আগের দিনে আমর সবচেয়ে প্রিয় সময় যখন আমাদের গ্রামের যাদের অবস্থা ভালো না, তাদের ইদের প্রয়োজনীয় সকল খাবার ও কিছু টাকা দেওয়া। যেটা আমার আব্বুসহ গ্রামের কিছু সচল মানুষের উদ্যোগে দেওয়া হয়।

ঈদের আগের দিন একসাথে ইফতার করার সময় মনে হয় খাবার গুলো যেন অমৃত। ইফতার এর সময় পুরো বছরের জমিয়ে রাখা গল্প তো আছেই।
যখন আমারা জানতে পারি চাঁদ উঠেছে, পুরো গ্রামের বাচ্চা ছেলে মেয়ে সবাই মিলে উঠোনে যাই চাঁদ দেখতে। উঠানের মধ্যে খোলা আকাশে খুব ভালোভাবে চাঁদ দেখা যায়। সেখানে সবাই মিলে চাঁদ দেখার মজাই আলাদা। সবাই তখন ওই চাঁদের দিকে আঙুল তুলে উচ্ছ্বসিত হয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে সমস্বরে চিৎকার করে উঠতাম ‘চাঁদ উঠেছে চাঁদ উঠেছে’।পুরো গ্রামে তখন সবাই মিলে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি চাঁদ উঠেছে বলে চিৎকার করে বেড়াই।

আর আমাদের মা-জেঠি-চাচিরা ঈদের দিনের খাবার এর জন্য সবকিছু জোগাড় করে রাখে।ঈদের নতুন জামা গায়ে সবাই একসাথে হয়ে সবার বাসায় ঈদ মোবারক বলতে যাই। সবাই আমাদের অনেক ধরনের খাবার খেতে দেয়। সবাই মিলে অনেক ছবি তোলা হয়। বিকেলে সবাই একসাথে ঘুরতে বের হই। এভাবেই আমার ঈদ হৈ-হুল্লোড় করেই কেটে যায়। আমার জীবনের বেশিরভাগ খুশির মুহুর্ত আসে এই ঈদের দিন থেকেই। যার কারণে ঈদ আমার জীবনের বিশাল একটা জায়গা দখল করে রেখেছে।

আফরোজা আলম তানি
ডিপার্টমেন্ট অফ কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, নিটার ১৩ তম ব্যাচ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।