চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রহমতিয়া কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়, প্রতারণা ও শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গত ২২ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ফটিকছড়ি বরাবর একটি স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রহমতিয়া কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের “ডিজিটাল মার্কেটিং ফর ফ্রিল্যান্সিং (স্পেশাল ব্যাচ)” নামে ৩ মাস মেয়াদী একটি কোর্সকে NSDA (National Skills Development Authority), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ হিসেবে প্রচার করা হয়।
কিন্তু ভর্তি সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে “জামানত” বাবদ ৩ হাজার টাকা করে আদায় করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ১৩,৫০০ টাকা ভাতা ও NSDA সার্টিফিকেট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তারা।
পরবর্তীতে নতুন ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ভাতার পরিমাণ কমিয়ে ১০,২০০ টাকা উল্লেখ করা হয়—এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়।
এছাড়া “স্পেশাল ব্যাচ” হিসেবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে ব্যাচ পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুরু না হয়ে এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান পরিচালকের বিরুদ্ধে উচ্চ মেজাজে হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়।
এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অবৈধভাবে আদায়কৃত ৩ হাজার টাকা ফেরত, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।
অভিযোগপত্রটি দাখিলের পরপরই জামানত বাবদ নেওয়া টাকা শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আলতাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া জামানত বাবদ সকল অর্থ ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া জামানত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানামতে, সকল শিক্ষার্থীরই জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি লিখিতভাবে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA)-কে জানানো হবে।

