চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অপকা’ (OPCA – Organization for the Poor Community Advancement)-এর একটি শাখা কার্যালয়ে এক নারীর অর্থ দাবি এবং ভিডিও ধারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে ফটিকছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে এনজিও কর্তৃপক্ষ।
এনজিও সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত ৮ জুলাই বুধবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ফাল্গুনী শীল নামে এক নারী অপকার ফটিকছড়ি শাখা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি আকস্মিকভাবে নিজের মোবাইল ফোনে অফিসের ভেতরের ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং ৪ লাখ টাকা দাবি করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অপকা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, ভিডিও ধারণকারী ফাল্গুনী শীল মূলত ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো নিবন্ধিত সদস্য নন। সদস্য হলেন তার স্বামী অনুপম কুমার শীল। তিনি ২০২৩ সালে অপকা’র মাধ্যমে মাসিক ৩ হাজার টাকা কিস্তির একটি ডিপিএস (DPS) হিসাব চালু করেন, যেখানে নমিনি হিসেবে স্ত্রী ফাল্গুনী শীলের নাম উল্লেখ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপরই ফাল্গুনী শীল এনজিও কার্যালয়ে গিয়ে ওই ডিপিএসের টাকা নিজের দাবি করে তা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী সদস্য জীবিত থাকা অবস্থায় নমিনিকে টাকা দেওয়ার নিয়ম না থাকায় কর্তৃপক্ষ অপারগতা প্রকাশ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ এনজিওটির।
সংশ্লিষ্ট ডিপিএস হিসাবধারী অনুপম কুমার শীল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ”ডিপিএসটি সম্পূর্ণ আমার নামে করা। আমি জীবিত থাকা অবস্থায় এই অর্থ অন্য কারও পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই টাকার প্রকৃত অধিকারী একমাত্র আমি নিজেই।”
অপকা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল গ্রাহক অনুপম কুমার শীলের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং নীতিমালা অনুযায়ী মেয়াদ শেষে বা নিয়ম মাফিক তার প্রাপ্য অর্থ তাকেই বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই অপপ্রচার চালানোয় তারা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফাল্গুনী শীল নিজের দাবিতে অনড় থেকে বলেন, “আমিই ৪ লাখ টাকা জমিয়েছি। জিডি করলে করুক, পুলিশ আমার কিছু করতে পারবে না।” তবে তিনি ৪ লাখ টাকা জমানোর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ নথিপত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
ফটিকছড়ি থানা পুলিশ জানায়, এনজিও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

