চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর এমদাদুল উলূম বড় মাদ্রাসার প্রবীণ শিক্ষক ও প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মুফতি ইমরান কাসেমী (৫৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গতকাল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার (১৬ মে) দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মুফতি ইমরান কাসেমীর জন্ম ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের খুইন্নের বাড়িতে। তাঁর পিতা মরহুম খায়রুল হক এবং মা জীবিত রয়েছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি বাংলাদেশে মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। এরপর ভারতীয় মহারাষ্ট্র প্রদেশের খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসা এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠানে কওমি ধারায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ভর্তি হন উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্ববিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দে। সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিসসহ সর্বোচ্চ শিক্খাগত সনদ অর্জন করেন।
দেশে ফিরে প্রথমে ফটিকছড়ি তালীমুদ্দীন মাদ্রাসায় প্রায় ৫-৬ বছর শিক্ষকতা করেন। পরে তৎকালীন মুহতামিম মরহুম মাওলানা আবু বকর (রহ.)-এর আহ্বানে ধর্মপুর এমদাদুল উলূম বড় মাদ্রাসায় যোগদান করেন। আমৃত্যু প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি শিক্ষকতা ও দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি তিনবার বিবাহ করেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিশ বছরের সংসারেও কোনো সন্তান না হওয়ায় বিচ্ছেদ ঘটে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক পুত্র সন্তান জন্মের পর তিনিও বিচ্ছেদপ্রাপ্ত হন। তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে কোনো সন্তান হয়নি।
মুফতি ইমরান কাসেমী ছিলেন অত্যন্ত নরম মেজাজের, হাস্যোজ্জ্বল ও সুন্নাতি জীবনের অনুসারী আলেম। ছাত্রদের কাছে ছিলেন শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ব্যক্তিত্ব। দ্বীনি শিক্ষা ও সমাজসেবায় তাঁর ভূমিকা বরাবরই প্রশংসিত ছিল। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মুজাহিদ কমিটি এবং বিভিন্ন মসজিদে জুমার খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আজ শুক্রবার (১৬ মে) রাত ৯টায় ধর্মপুর এমদাদুল উলূম বড় মাদ্রাসার মাঠে তাঁর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

