বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা সহযোগিতা প্রকল্প ‘জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’ ২০২২-২৩ পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের(বশেমুরমেবি) ১০ জন শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায় যে, ১৩৫৭ জন এম এস শিক্ষার্থী, ৪ জন এমফিল ও ২০ জন পিএইচডি শিক্ষার্থীকে এই ফেলোশিপ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড ওশানসাইন্স অনুষদের অধীনে থাকা ওশানোগ্রাফি এন্ড হাইড্রোগ্রাফি বিভাগে
এম এস এ অধ্যায়নরত দশ জন শিক্ষার্থী
প্রথম বারের মতো এই ফেলোশিপ পেয়েছেন।
ফেলোশিপ প্রাপ্তদের মধ্যে স্নাতকোত্তরের প্রত্যেক শিক্ষার্থী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় থেকে গবেষণার জন্য ৫৪ হাজার টাকা পাবেন।
এই বিষয় জানতে চাইলে ফেলোশিপ অর্জনকারী শিক্ষার্থী সৈয়দা জেসিয়া ফেরদৌস জানান, আমি যখন জানতে পারি যে NsT ফেলোশিপের জন্য মননীত হয়েছি সেই সময়টা সত্যিই অনেক আনন্দের ছিল এবং এরজন্য আমি সর্বপ্রথম মহান আল্লাহতালার শুকরিয়া আদায় করি এবং এরপর আমার বাবা- মা কে আমার মনোনীত হওয়ার বিষয়টি জানাই।
সত্যি বলতে সমুদ্র বিষয়ক গবেষণা খুব একটা সহজ কাজ নয় এবং এই ধরনের গবেষণার জন্য আর্থিক একটা উৎস থাকার দরকার এবং সুষ্টুভাবে গবেষণা করার জন্য এই NST ফেলোশিপ আমাকে অনেকবেশি উপকার করবে। যেহেতু আমি একজন শিক্ষার্থী এবং সমুদ্র বিষয়ক গবেষণা করার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয় সেইটা হয়তো নিজ থেকে ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল না। তাই NST ফেলোশিপের মাধ্যমে আমার গবেষণার এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ, বিশ্লেষন এবং যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে আরেক ফেলোশিপ অর্জনকারী বায়জিদ মাহমুদ বলেন, NST ফেলোশিপ অর্জন আমার কাছে অনেক গর্বের একটা ব্যাপার। তাছাড়া, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিপার্টমেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মত আমরা দশজন ফেলোশিপ পেয়েছি যেটা একটা রোমাঞ্চকর অনুভূতি। এই ফেলোশিপ পাওয়ার পিছে আমার থিসিস সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান স্যারের অবদান অনস্বীকার্য। আমি আমার বাবা-মা সহ কাছের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যারা আমাকে সবসময় দোয়া ও সমর্থন দিয়ে গেছে। আশা করছি, এই ফেলোশিপ আমার থিসিস কাজে ভিন্নরকম মাত্রার যোগান দিবে। আর্থিক অংকের পরিমাণ যেটাই হউক, সবচেয়ে বড় কথা এই ফেলোশিপ, আমাকে আমার চলমান গবেষণাকাজে আরো বেশি অনুপ্রেরণা যোগাবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭-১৯৭৮ অর্থবছর থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ও গবেষণারত এমএস, এমফিল, পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের এই অনুদান দেয়া হয়।
প্রতিবছর মোট ৩টি গ্রুপে এই ফেলোশিপ প্রদান করা হয়: ১.ভৌত, জৈব ও অজৈব বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পরিবেশ বিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য শক্তি বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ন্যানোটেকনোলজি লাগসই প্রযুক্তি ২. জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ৩.খাদ্য ও কৃষি বিজ্ঞান।

