amadermuktokantho
চট্টগ্রামরবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভুয়া সাংবাদিকতার আড়ালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে সহায়তায় সাদমান দিশানের

জবি প্রতিনিধি:
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদমান দিশান নামে ভুয়া কথিত এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং ক্যাম্পাসে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বেশ কিছু পোস্ট ও প্রতিক্রিয়া এবং ক্যাম্পাসের একাধিক সূত্রের বক্তব্যে তার নাম উঠে এসেছে।

একই অভিযোগে খুলনা জেলা কল্যাণ সমিতি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে আর্থিক অনিয়ম, নারীসংক্রান্ত অভিযোগ, জকসু নির্বাচনকালীন সময়ে মোবাইল ফোন গ্রহণ, জবি ছাত্রদলের বর্তমান সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনকে ‘শিবির’ হিসেবে উপস্থাপন করে সংবাদ প্রকাশে অন্যদের চাপ দেওয়া এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে সাবেক সভাপতি বহিষ্কৃত জাহাঙ্গীর আলমের নামও সামনে এসেছে।
সাদমান দিশান নিজেকে একটি নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। তার এই সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্যাম্পাসের কয়েকজন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, নামসর্বস্ব ওই অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক পরিচয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং ক্যাম্পাসে তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন।

সাদমানের ফেসবুক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পোস্টে তার নিয়মিত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক পোস্টে লাইক ও ‘লাভ’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ার বেশ কিছু স্ক্রিনশটও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত শাহিন আলমের বিভিন্ন পোস্টেও সাদমানের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ঘিরে শাহিন আলমের একটি রাজনৈতিক পোস্টেও সাদমানকে ‘লাভ’ রিঅ্যাক্ট দিতে দেখা যায়। একইভাবে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ফিরে আসা, পুনরায় সংগঠিত হওয়া এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্টেও সাদমানকে সক্রিয় দেখা গেছে।

সাদমানের ফেসবুক কার্যক্রম নিয়ে ক্যাম্পাসের অন্যদের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে। মো. মিঠু নামের একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এ বিষয়ে লেখেন, “এই ছেলে ক্যাম্পাসের সবগুলা ছাত্রলীগের পোস্টে লাভ রিয়্যাক্ট দেয়, আমি অনেক খেয়াল করছি।” মিঠু নামে এই শিক্ষার্থীর মন্তবে অলটাইম বলে মন্তব্য করেন জবি ছাত্রদলের আহ্বয়ক সদস্য ইমন। তবে সাদমানকে ঘিরে অভিযোগ শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
ক্যাম্পাসের একাধিক সূত্রের দাবি, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ব্যানার-পোস্টার লাগানো বা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করলে কখন ক্যাম্পাসে আসা সুবিধাজনক, কোন সময়ে লোকজন কম থাকে কিংবা কোন জায়গায় কার্যক্রম চালালে সহজে নজরে পড়বে না এ ধরনের তথ্যও তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সাদমানসহ আরও কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

সূত্রগুলোর আরও দাবি, জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত শাহিন আলমের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই সাদমান, জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুনরায় সক্রিয় হতে কারা সহযোগিতা করছে এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একটি অংশের ভূমিকার অভিযোগও সামনে এসেছে। ক্যাম্পাসের একাধিক সূত্রের অভিযোগ, ছাত্রদলের একটি অংশ যাদের ক্যাম্পাসে ‘বিদ্রোহী গ্রুপ’ হিসেবে পরিচিত বলে সূত্রগুলো দাবি করছে—সাদমান, জাহাঙ্গীরসহ সাংবাদিক পরিচয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী এবং সমর্থক হিসেবে সক্রিয় কয়েকজনকে সহযোগিতা করছে।
এই ছত্রছায়াকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন এবং তাদের আবার ক্যাম্পাসে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা করছেন। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ তথ্য দেওয়া বা তাদের কার্যক্রমে সহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষনিক তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।