বর্ণিল আয়োজনের মধ্যেদিয়ে অনলাইন জগতের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির চর্চা ও সমৃদ্ধির চারণভূমি খ্যাত ‘শিল্পাঙ্গন’ ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ১৯ মে ) অনুষ্ঠানটি জাঁকজমক ভাবে চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে বিকাল ৪ টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টায় শেষ হয়।
এসময় অনুষ্ঠানটি কবি, সাহিত্যিক, উপন্যাসিক, শিল্প সাহিত্যের সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক, পাঠক, শ্রোতা-দর্শক, কন্ঠ শিল্পী, অভিনয় শিল্পী, ফটোগ্রাফার, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, বাংলা একাডেমির লেখকসহ গুণীজনের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে।
কণ্ঠ শিল্পী ও সংগঠক কাজী রেহানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি উদ্ধোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেতা আহসানুল হক মিনু।
সাফা মারওয়া এবং মহসিন জুয়েলের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (মানবপাচার ও অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল) জান্নাতুল ফেরদৌস। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও সংগঠক প্রফেসর রীতা দত্ত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি ও সংগঠক নজরুল ইসলাম বাঙ্গালি এবং শিল্পাঙ্গনের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক, চিত্রশিল্পী, কবি, ছড়াকার ও সংগঠক কাজী শামীমা আক্তার।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামীমা আক্তার বলেন, সুচারু রুপে সুসম্পাদিত হলো শিল্পাঙ্গনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক গুণীজন সম্বর্ধনা-২০২৩। যাদের সরব উপস্থিতিতে শিল্পাঙ্গনের আঙ্গিনা হয়েছে আলোড়িত ও মুখরিত তাদের সকলকে জানাই অন্তরের অন্তস্থল থেকে অফুরান ভালোবাসা এবং লাল গোলাপের শুভেচ্ছা।
তিনি আরও বলেন, শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ও সম্মৃদ্ধির চারণভূমি শিল্পাঙ্গন। ভার্চুয়াল জগতে প্রচুর সাহিত্য সংগঠন রয়েছে। শিল্পাঙ্গন তার চেয়ে একটু ব্যতিক্রমধর্মী একটি সংগঠন। শিল্পাঙ্গন শুধু সাহিত্য নিয়ে কাজ করে না বরং শিল্পাঙ্গন কাজ করে শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতি ও বাংলার ঐতিহ্য নিয়ে। বর্তমানে অপসংস্কৃতির কারণে আমাদের শিশু কিশোর যুবকেরা অপসংস্কৃতি দিকে ধাবিত হচ্ছে, ভুলে যাচ্ছে নিজেদের শিকড়ের কথা, নিজেদের ভাষা সংস্কৃতির কথা। শিল্পাঙ্গন বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও শিকড়ের কথা বলে। শিল্পাঙ্গন এর মাধ্যমে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায় বাংলার ভাষা সংস্কৃতি।
আরো বলেন- শিখর ছাড়া যেমন বৃক্ষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, তেমনি একটি জাতিকে নিজের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখতে হলে ভাষা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির অবদান অনস্বীকার্য। তাই শিল্পাঙ্গন নিজের শিকড়ের অস্তিত্ব তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। শিল্পাঙ্গনে বাঙ্গালি কবি সাহিত্যিক শিল্পী ছাড়াও রয়েছে অনেক প্রবাসী ও ফরেনার লেখক শিল্পীরাও। যাদের পদচারণায় শিল্পাঙ্গনের মাধ্যমে বন্ধুত্ব ও ভাতৃত্ববোধ গড়ে উঠে। বিশ্ববাসীর কাছে শিল্পাঙ্গনের মাধ্যমে বাঙ্গালি জাতির শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ুক এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
এসময় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষক, কবি ও সংগঠক মো: শাহজাহান চৌধুরী, অভিনেতা ও সংগঠক বাবু সুনিল ধর, শিক্ষক ভাষ্কর ও সংগঠক বাবু সনজিত রায়, কবি সংগঠক ও মাসিক নবযাত্রার সম্পাদক বাবু দুর্জয় পাল, কবি ও সংগঠক জনাব ফারুক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, শিক্ষক, কবি ও সংগঠক গাজী সাইদুর রহমান।
অনুষ্ঠান মালার ১ম অংশে পবিত্র কোরান, গীতা, ত্রিপিটক থেকে পাঠ কর হয়। এরপর জাতীয় সংগীত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, গান, গ্রুপের এডমিন-মডারেটর ও উপদেষ্টাদের পরিচিতি পর্ব দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
২য় অংশের শুরুতে অতিথি সহ উপস্থিত সবাইকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন শিল্পাঙ্গনে প্রতিষ্ঠাতা ও অনুষ্ঠানের সভাপতি। এরপর শুরু হয় বক্তাদের প্রাণবন্ত আলোচনা, ক্রেস্ট-সনদ, গুণীজনদের হাতে বই বিতরণ এবং সকলের উপস্থিতিতে ফটোসেশানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
জানাগেছে- ২০২১ সালের ১৪ই এপ্রিল শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির চর্চা ও সমৃদ্ধির চারণভূমি হিসেবে অনলাইন জগত ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ হয় শিল্পাঙ্গন সংগঠনটির।

