amadermuktokantho
চট্টগ্রামসোমবার , ১৬ জানুয়ারি ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাবীক কর্মকর্তা বিপ্লব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন লোপাটের অভিযোগ

মোহাম্মদ ইরফানুল ইসলাম
জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ ৫:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

মোঃ রাসেল সরকার//
সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের মানব সম্পদ বিভাগের (প্রশাসন) ম্যানেজার বিপ্লব কুমার দাস সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন-ভাতা লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ দিন যাবত প্রশাসনে থাকা উক্ত ম্যানেজার আউটসোর্সিং কর্মীদের নামে সাধারণ বীমা কর্তৃক নির্ধারিত বেতনের একটি অংশ কেটে রেখে এবং ভূয়া কর্মীদের তালিকা দেখিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশ করে দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করে আসছে এই চক্রটি। বিষয়টি সুষ্ঠ্য তদন্ত করা হলে এর সততা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের মানব সম্পদ বিভাগের (প্রশাসন) এর ডিজিএম শহিদুল হকের অধীনে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নানা বিষয়ে দেখভালের মধ্যে কর্মীদের বেতন ভাতা অন্যতম। আর ম্যানেজার বিপ্লবের ভাষ্যনুযায়ী একাজটি ডিজিএম শহিদুল হক এর নিয়ন্ত্রনে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে অফিস পর্যন্ত চুড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করেন ম্যানেজার বিপ্লব কুমার দাস ও অডিট বিভাগের ম্যানেজার ওয়াহেদ মোল্লা। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী আউটসোর্সিং কর্মীদের সরবরাহ করে থাকে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তির শর্তাবলী অনুসারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যতজন লোক সরবরাহ করে থাকেন সেই পরিমাণ লোকের বেতন ভাতা নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করেন। কিন্তু কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত অসৎ কর্মকর্তাদের সাথে সিন্ডিকেট করে ওই পরিমাণ জনবল সরবরাহ না করে কম সংখ্যক জনবল সরবরাহ দিয়ে পুরো তালিকা অনুযায়ী বেতন ভাতা গ্রহণ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর এমন অনিয়মটিই দীর্ঘদিন যাবৎ করে আসছে ম্যানেজার বিপ্লব সিন্ডিকেট। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের এমডির বাংলো সহ কর্পোরেশনের প্রতিটি অফিসে টেন্ডার বা চুক্তি অনুযায়ী যে পরিমাণ আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। খাতা-কলমে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন সেই পরিমাণ কর্মীর বেতন ভাতাই পরিশোধ করে আসছে। কিন্তু বিপ্লব সিন্ডিকেট বাস্তবে সেই পরিমাণ কর্মীর মধ্যে অর্ধেক কর্মী দিয়ে কাজ করিয়া আসছেন। আর মাঝখানে ভুয়া কর্মীর তালিকা সমন্বয় করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। বিষয়টি অডিট কর্মকর্তা ওয়াহেদ মোল্লা পর্যবেক্ষণ করার বিধান থাকলেও তিনি ম্যানেজার বিপ্লবের সাথে সিন্ডিকেট করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে টাকার ভাগ পেয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে মাথাপিছু আউটসোর্সিং কর্মীর বক্তব্য গ্রহণ করলেই সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

আবার সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার অনুসারে সরবরাহকৃত আউটসোর্সিং কর্মীর সংখ্যা অনুযায়ী বেতন-ভাতা পরিশোধ করে থাকেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের কমিশন কর্তন করে অবশিষ্ট বেতনের টাকা কর্মীকে দিয়ে থাকেন। যদি কোনো কর্মী সঠিকভাবে সেই বেতন না পায় তাহলে তারা সাধারণ বীমা কর্পোরেশনকে অবগত করতে পারেন। সেক্ষেত্রে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন ভাতা সঠিকভাবে পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের ম্যানেজার বিপ্লব সিন্ডিকেটের সাথে কমিশনের বিনিময়ে সিন্ডিকেট গড়ে কর্মীদের সেই বেতনের শতকরা ৫০ ভাগ কেটে রাখেন এবং কেউ অভিযোগ জানালে তাকে চাকরি থেকে ছাটাই করে দেন। এতে করে আউটসোর্সিং কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কারণ তারা কম বেতনে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের কয়েক জন কর্মকর্তা – কমচারী বলেন, আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে যতজন নিয়োগ করা আছে, বাস্তবে দেখা গেছে ইহার এক-তৃতীয়াংশ লোক কর্মরত আছে। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের প্রায় প্রতিটি শাখা এবং জোন অফিসে দীর্ঘদিন যাবৎ ম্যানেজার বিপ্লব কুমার দাস ও অডিট কর্মকর্তা ওয়াহেদ মোল্লা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কমিশন ভিত্তিক সিন্ডিকেট গড়ে এই অপকর্মটি চালিয়ে আসছেন। তবে এসব অপকর্মের ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। ম্যানেজার বিপ্লব কুমার দাস তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডিজিএম শহিদুল হক নির্দেশনায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জোড় চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। কারন বিপ্লবের কথা অনুযায়ী এই অপকর্মের সাথে ডিজিএম শহীদুল হক জড়িত রয়েছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এক মালিকরা জানায়, তাদের মাধ্যমে যে পরিমাণ আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেওয়া আছে সেই পরিমাণ কর্মী বাস্তবে কর্মরত নেই। কারণ কর্মকর্তার না চাইলে তারা লোকে সরবরাহ দিতে পারে না। কর্মকর্তাদের ইচ্ছেমতো কার্য পরিচালিত না করলে টেন্ডার বাতিল করে দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে সব কিছু ঠিকঠাক রেখে কমিশন দেয়ার মৌখিক শর্ত মেনে কাজ করতে হয়। তাদের এখানে কিছুই করার নেই। তাদেরকে ব্যবহার করে অফিসের কর্মকর্তারা সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন।

অডিট বিভাগের ম্যানেজার ওয়াহেদ মোল্লা বলেন, তিনি অফিসের নিয়ম মেনে কাজ করে থাকেন। বাস্তবে কতজন লোক আছে, সেই বিষয়ে একমাত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন। বাস্তবে লোক সংখ্যা কত জন আছে তা দেখার দায়িত্ব তার নয়।
এ ব্যাপারে জানতে ডিজিএম শহীদুল হকের সাথে একাধিকবার মোবাইলে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি এবং তার অধীনস্ত ম্যানেজার বিপ্লব কুমার দাস বলেন, বিষয়টি আমি একা দেখি না, আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তাদের নির্দেশ মতো সবকিছু হয়ে থাকে। বিস্তারিত জানতে চাইলে আমার অফিসে আসেন।

চলবান..!

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।