রাস্তায় বের হতে এখন কম করে হলেও একশো’বার ভাবতে হয়
চারদিকে শুধু ভুতুড়ে নিরবতা, ভ্যাপসা গন্ধ
উটকো পঁচা গোবরের মতো পিচঢালা পথ
অসহ্য যন্ত্রণায় মন পোড়ে অদ্ভুত আর্তনাদে।
বুক চাপা দীর্ঘশ্বাসে চারদিকে ভারি বাতাস
আকাশ থেকে মাটিতে পড়ছে ফোটা ফোটা রক্ত
মানুষের রক্ত। পাথরে পাথরে থেঁতলে দেয়া মাথা
ছুড়ি, চাপাতি দিয়ে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন শরীর থেকে
চুইয়ে চুইয়ে অবিরাম ঝরা আর্ত চিৎকার!
কী বিভৎস রাজনীতি! কী নির্মম সত্যের অপমৃত্যু!
আজকাল মানুষে বড্ড ভয় হয়
ওরা দেখতে তো অবিকল মানুষের মতোই।
খুঁজে পাই না তাই কোনটা হায়েনা আর কে বা মানুষ!
শিকারের খোঁজে ওরা ভয়ঙ্কর আদিম পিশাচ
ওদের ঝরানো রক্তে রঞ্জিত আজ প্রিয় স্বদেশ
ওরা পাহারাদার বিষদাঁত মুখে রাস্তার কোনে কোনে
ভয় হয় তাই প্রতিটি রাস্তার নিরবচ্ছিন্ন নির্মমতায়
কোথায় ওঁৎ পেতে আছে কার রক্তের পিপাসায় কে জানে!
আজকাল রাস্তায় জীবিত মানুষ থাকেনা
ওরা অন্ধ, বধির, কালা মানুষ সদৃশ নির্জীব প্রাণী
সবাই কেমন ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি পাথরে।
পাথর চোখ, মুখবন্ধ। চারদিকে ছড়ানো বিদ্বেষ
সময়ের ব্যবধানে আমরা মনুষত্বহীন অস্বাভাবিক প্রাণী।
মানবিক বিকারগ্রস্ত এক পথভ্রষ্ট জাতি।
আমাদের পাঁজরে জমে থাকা বিদ্বেষের পাথরে
খুবলে খুবলে খাচ্ছি বিবেক, মানুষের রক্তে দেখি নারকীয় উল্লাস
মানুষ মরছে নির্বিচারে, পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে কেউ
কেউ মুখ ঘুরিয়ে চলে যাচ্ছে, কেউ ভিডিও করছে
আমি তখন কেবল মানুষের ভেতর থেকে বেরিয়ে
কতগুলো অমানুষকে নির্বিঘ্নে হেঁটে যেতে দেখি।

