বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার কলেজ নোয়াখালীর হোস্টেল থেকে আসার সময় উক্ত কলেজের ১৪তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের মেধাবী শিক্ষার্থী আতিকুন নবী লাল সবুজ বাস দ্বারা মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন ।
ঘটনাস্থলে তার সহপাঠী তিনজন স্বচক্ষে ঘটনাটা দেখতে পান । তাদের ভাষ্যমতে, সাইকেল আরোহী আতিক যখন রোড ক্রস করে বাস স্টেশনের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনি তার পিছন দিক দিয়ে আসা লাল-সবুজ বাস তাকে পেছন দিক থেকে আঘাত করে ও বাস চাপা দেয়। তৎক্ষণাৎ বাস চালক ও হেল্পার বিষয় টি বুঝতে পারলেও তারা বাসটির গতি বাড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন-ই তার সহপাঠীদের অকপটে চিৎকার চেঁচামেচিতে বাসের প্যাসেন্জার বাসটি থামাতে বাধ্য করে। ঐ মূহুর্তে গাড়ির ড্রাইভার, সুপারভাইজার, হেলপার তিনজন-ই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
তাদের সহপাঠী ধারণামতে,বাসটি যদি গতি না বাড়াতো তাহলে আহতের শংকা অনেকাংশে কমে যেতো।
বাসের প্যাসেন্জারের ভাষ্যামতে, সংঘর্ষের পূর্বমুহূর্তে বাসচালক টাকা গণনার কাজে মনোনিবেশ ছিলো। অন্যমনস্ক থাকায় এমন একটা ভয়াবহ দূর্ঘটনা ঘটায়।
তার এক সহপাঠীর ভাষ্যমতে, সাইকেল আরোহী আতিক যখন বাস স্যান্ড দিয়ে যাচ্ছিলো ঠিক তখনি লাল-সবুজ বাসটা পিছন দিক দিয়ে তাকে আঘাত করে ২০-৩০ মিটার দূর পর্যন্ত টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপর-ই তার সহপাঠীরা এবং ক্যাম্পাসের সিনিয়ররা মিলে থাকে দ্রুততার সহিত চৌরাস্তা প্রাইম হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখন প্রাইম হাসপাতালের দায়িত্বরতরা তার চিকিৎসা করাতে অপারগ জানান।
পরবর্তীতে তাকে ২৫০শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নোয়াখালীতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানে তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে দেখা যায়, তার মাথার পিছনে তিনটা ফাটল দেখা দেয় এবং নাক-মুখ দিয়ে অনবরত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে তার মাথা, মুখ ও হাতপায়ের ৮/১০ জায়গায় সেলাই করা হয়। এমতাবস্থায় অবস্থা খারাপের দিকে এগোলে ঝুঁকি এড়াতে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তখন তৎক্ষনাৎ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তার দ্বারা তাকে সিটিস্ক্যান করান এবং যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলা হয়। বর্তমানে সে তার নিজ বাড়ি (নারায়ণগঞ্জ)-তে অবস্থান করছেন।
দূর্ঘটনার খবর শুনে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নোয়াখালীর ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বাস ড্রাইভারকে ধরার চেষ্টা করে কিন্তু বাস ড্রাইভার পালিয়ে যাওয়াতে ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বাসটি ভাংচুর করে এবং একই পরিবহনের আরেকটা ফিটনেসবিহীন বাস জব্দ করে ক্যাম্পাসে আটকে রাখে। একইসাথে চৌরাস্তায় সড়ক অবরোধ করে। পরবর্তীতে পুলিশের ওসি, ইউনও এসে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস করলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে অবরোধ উঠিয়ে নেয়।
এমন নির্মম মর্মান্তিক ঘটনার পরও কিছু কিছু হলুদ মিডিয়া এ ঘটনাকে উল্টোদিকে মোড় দিতে ঘটনার সত্য-মিথ্যে যাচাই না করে লাল-সবুজ পরিবহনের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন মিথ্যা অপপ্রচার চালায় যে, যেখানে তারা দূর্ঘটনার বিষয়টি বড় করে না দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাংচুরের বিষয়টি বড় করে দেখাচ্ছে। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী যেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে সেখানে তারা দায়ী করছে শিক্ষার্থীরা বিভিন্নরকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এবং শিক্ষার্থীদের নামে বিভিন্নরকমের মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।
দূর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী আতিক ২ ভাই ১ বোনের মধ্যে সবার বড়। তার বাবা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের চাকরি থেকে এখন অবসরপ্রাপ্ত। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে দুইবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন। কিছুদিন আগে তার হার্টের বাইপাস সার্জারী হয়েছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা শুনার পর তার বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন একইসাথে তার পরিবারে সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের বড় সন্তান এবং বাবা অবসরপ্রাপ্ত হওয়ায় পরিবারের ভরণপোষণ ও ভাইবোনের পড়াশোনার খরচ চালানোর গুরুদায়িত্ব আতিকের কাঁধে এসে পড়ে। সে ফ্রিল্যান্সিং এবং টিউশনি করিয়ে-ই ভরণপোষণ ও পড়াশোনার খরচ চালাতেন। এমতাবস্থায়, তার মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় তার পরিবারের ভরণপোষণ তো দূরে থাক তার চিকিৎসা খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার । এছাড়াও তার ভাইবোনের ভবিষ্যত নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে।
এমন মর্মান্তিক ঘটনায় নোয়াখালী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রিন্সিপালের ভূমিকা ছিলো নগন্য। এমন নির্মম ঘটনায় তার অভিভাবকরূপে আবির্ভূত হওয়ার কথা থাকলেও ৩৭/৩৮ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি তার সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন না এবং তার প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকাও ছিলো না। এমনকি তিনি আহত আতিকের পরিবারকেও নূন্যতম কোনো সহানুভূতি দেখান নি এবং কোনো প্রকার খোঁজখবরও নেন নি। তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ-আহত-মর্মাহত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নোয়াখালীর সকল শিক্ষার্থীরা তার প্রতি তীব্র নিন্দা জানান।
কিছুদিন আগে টিইসিএনেরই আরেকজন ছাত্র সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হলে তিনি সড়ক দূর্ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দাবী-দাওয়া মেনে নিয়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন আশ্বস্ত করলেও, এত্তো সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ নেননি এবং কোনো বাস্তবায়নও করেনি।
এমতাবস্থায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নোয়াখালীর সকল শিক্ষার্থীদের একটাই চাওয়া ক্যাম্পাসের প্রশাসন এবং সড়ক মন্ত্রণালয় যাতে এ বিষয়টির একটি স্পষ্ট সুরাহা করে এবং দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়, পাশাপাশি লাল-সবুজ পরিবহন যাতে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইসাথে আতিকের পরিবার এবং চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। প্রাণঘাতী সড়ক যেন আর কোনো শিক্ষার্থীদের সড়ক দূর্ঘটনার কারণ না হয় এ কামনা করছে টিইসিএনের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

