নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) কর্মরত আনসার সদস্যের তৎপরতায় লক্ষ্মীপুর থেকে অপহরণের শিকার ১০ বছর বয়সী এক শিশু তার পরিবারের কাছে ফিরে গেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে নোয়াখালীর সোনাপুর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংকে কর্মরত আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বে থাকা অন্যান্য আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ইব্রাহিম খলিল (১০)। তার বাবার নাম ইকবাল খান এবং মায়ের নাম খালেদা বেগম। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দরজীপাড়া, খানবাড়ী এলাকায়। সে ওই এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী জানান, তিনি ছুটি কাটিয়ে চট্টগ্রাম থেকে বাসযোগে সোনাপুরে আসেন। ভোর আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটের দিকে সোনাপুর এলাকায় রিকশাযোগে যাওয়ার সময় রয়্যাল হাসপাতালের কাছাকাছি এক শিশুকে ভীত ও আতঙ্কিত অবস্থায় দৌড়াতে দেখেন। পরে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি জানায়, তাকে আগের দিন মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ করে নোয়াখালীর সোনাপুরের একটি বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল।
সুযোগ বুঝে ওই বাসা থেকে পালিয়ে এসে শিশুটি সোনাপুর এলাকায় দিকবিদিক ছুটছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আনসার সদস্য অভিজিৎ শিশুটির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ওসং মারমা, ওস্তাদ চিংমং মারমাসহ অন্যান্য সদস্যরা শিশুটিকে নিরাপদে আশ্রয় দেন। তার কাছ থেকে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করে মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে শিশুটির মা-বাবা ও স্বজনরা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে উপস্থিত হলে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, “ছুটিতে বাড়ি থেকে ফেরার পথে সোনাপুরে শিশুটিকে ভীত অবস্থায় দৌড়াতে দেখি। তাকে থামিয়ে কথা বলার পর জানতে পারি, তাকে আগের দিন মাদরাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে শিশুটিকে নিরাপদে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসি। আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”
অপহৃত শিশুকে নিরাপদে ফিরে পেয়ে তার পরিবার ও স্বজনরা নোবিপ্রবির আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

