ইদ ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই ইদকে ঘিরে থাকে মানুষের কত আশা-আকাঙ্ক্ষা। থাকে কত চাওয়া পাওয়া। মাহে রমজানের একটি মাস রোজা রাখার পর সবাই ইদের খুশিতে মেতে উঠে। ইদের নামাজ, সেমাই, বাহারি রকমের রান্না সবকিছু মিলিয়ে ইদ কেটে যায় আনন্দে আর খুশিতে। ইদ মানে আনন্দ ইদ মানে খুশি কিন্তু এই আনন্দ কি সবার জন্য সমান হয়?
হয় না, আমাদের সমাজে তিন শ্রেণীর লোক বসবাস করে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, আর নিম্নবিত্ত। তিন শ্রেণীর মানুষের ইদ উদযাপন কিন্তু একরকম নয়। যারা উচ্চবিত্ত আছেন তাদের তো কোনো সমস্যা থাকে না ইদের আনন্দ পরিপূর্ণ ভাবে উপভোগ করতে। আর যারা মধ্যবিত্ত তারা কোনো মতে তাদের ইদ কাটিয়ে দেয় সামান্য আনন্দ আর খুশিতে। কিন্তু যারা নিম্নবিত্ত আছে তাদের এমন চিত্র লক্ষ্য করা যায় না। ইদের চাঁদ তাদের জন্য আনন্দ বয়ে আনে না। কারণ বাকিদের মতো তারা উৎসব মুখর পরিবেশে ইদ উদযাপন করতে পারেনা। সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষেরা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে তাদের জীবন টিকিয়ে রাখছে। তাদের আয় দিয়ে ঘর-সংসার চালানো তাদের পক্ষে কোনো যুদ্ধের চেয়ে কম নয়। তাদের আয় খুব সামান্য হয়ে থাকে যা দিয়ে ইদ পালন করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তার ওপর দেশের চলমান পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সব মিলিয়ে এক কঠিন পরিবেশ বিরাজমান। মানুষের আয়ের থেকে এখন ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। প্রায় প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য এখন হাতের নাগালের বাইরে। টিসিবির পন্য নেয়ার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। চিন্তা একটাই কম মূল্যে চাহিদা কিভাবে পূরণ করা যায়।
উচ্চবিত্ত আর নিম্নবিত্ত মানুষের ইদ কখনো সমান হতে পারে না। কেউ ইদ পালন করে দামি পোশাক, ভালো ভালো খাবার আর নানা আয়োজনে আর কেউ ইদ পালন করে খুব কষ্টে দুমুঠো ভাত জুটিয়ে। বিড়াট মহলের রাজা আর রাস্তার পাশের ভিখারির ইদ উদযাপন এক হতে পারে না।
সবশেষে আশা একটাই থাকবে, এই ইদ সবার জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ-শান্তি আর ভালোবাসা।
মো.মারুফ আহম্মেদ বাঁধন
শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

