ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ধমকা বিল থেকে ফসলী জমির টপসয়েল কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা। ডজনাধিক ভেকু মেশিন (এক্সেভেটর) ও শতাধিক ডাম্পার ট্রাক নিয়ে রাতদিন সমানতালে চলছে এ টপসয়েল কাটা। এতে ক্ষতবিক্ষত ও বিরানভূমিতে পরিণত হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে জেলার শষ্যভান্ডার খ্যাত ধমকা বিল। ক্রমাগত টপসয়েল কাটার ফলে জমির উর্বরা শক্তি কমে যাওয়ায় শষ্য উৎপাদন কমে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এতে এতদাঞ্চলে খাদ্য ঘাটতির আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ধমকা বিলের অন্ততঃ চার পয়েন্টে ১০/১২ টি এক্সেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ঈদগাঁও রাবারড্যাম রাস্তার মাথার অদুরবর্তী বিল ও পালাকাটা রেলক্রসিং এর পশ্চিমে এক্সেভেটর দিয়ে টপসয়েল কেটে নিচ্ছে। এছাড়াও দক্ষিণ লরাবাক-মোহনবিলা সংযোগ সড়কের দু পাশের বিলে ডজনখানেক এক্সেভেটর দিয়ে টপসয়েল কাটা হচ্ছে। টপসয়েল কেটে নেয়ায় জেলার শষ্যভান্ডারখ্যাত ধমকা বিল পরিণত হচ্ছে বিরান ভূমিতে।
এভাবে টপসয়েল লুটের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
কিন্তু কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে রাতেও শক্তিশালী ফ্লাডলাইট জালিয়ে টপসয়েল কাটা অব্যাহত রেখেছে ইটভাটা মালিকরা।
ফসলী জমি থেকে দিনরাত কেটে নেয়া এসব টপসয়েল শতাধিক ডাম্পার ট্রাকযোগে স্হানীয় “টিকে ব্রিকফিল্ড” এ নেয়া হচ্ছে। ধমকা বিলের বিভিন্ন স্হান থেকে টপ সয়েল কেটে নিয়ে কয়েকটি পর্বতাকারের স্তুপ করা হয়েছে এ ব্রিকফিল্ডে। এলাকাবাসী জানান, আইনের তোয়াক্কা না করে জালালাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ফরাজী পাড়ায় লোকালয়ের মাঝে ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে আবাদী জমিতে অবৈধ এ ব্রিক ফিল্ড স্হাপন করা হয়েছে।
অনুমোদন ও পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন এ ইটভাটা বিগত প্রায় ২ যুগ ধরে এলাকার পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস ও স্হানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্হ্যগত হুমকি সৃষ্টি করলেও সবসময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার এর উপ পরিচালক হাফিজুর রহমান ফোন রিসিভ না করায় এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া বলেন, ফসলী জমি থেকে টপসয়েল কাটা বন্ধ করতে উপজেলার বিভিন্ন স্হানে রাতেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। টপসয়েল কাটা বন্ধে ফের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

