মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে প্রবল বৃষ্টিতে জমা পানিতে বিদুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মা-বাবা-বোন মারা গেলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে ওই পরিবারের ৭ মাসের এক শিশু হোসাইন।
বৃষ্টির মধ্যে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাসার দিকে ফিরছিলেন মিজান হাওলাদার (৩৫)। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা কমার্স কলেজ-সংলগ্ন ঝিলপাড় বস্তির বিপরীত পাশে রাস্তায় মিজান, তার স্ত্রী মুক্তা (২৫) ও মেয়ে লিমা (৭) বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান। এসময় মিজানের পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ অনিক (১৮) নামের এক তরুণ। তবে আহত হলেও বেঁচে আছে মিজান-মুক্তা দম্পতির সাত মাসের ছেলে হোসাইন। এ ঘটনায় বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
এ ঘটনায় শিশুটির মা মুক্তা (২৫), বাবা মিজান (৩৫), তাদের এক মেয়ে লিমা (৭) ও প্রতিবেশী অনিক (১৮) মারা যান। তাদের মরদেহগুলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রয়েছে।
শিশুটিকে উদ্ধারকারী তৃতীয় লিঙ্গের বৃষ্টি ও আমেনা জানিয়েছেন, ঘটনার পর শিশুটিকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটি এখন ভালো আছে।
শনিবার সকালে শিশু হোসাইনকে নিয়ে মিরপুর মডেল থানায় আসেন আমেনা বেগম। সেখানে তিনি শিশু হোসাইনের বেঁচে যাওয়া ঘটনা গণমাধ্যমকে বর্ণনা করেন। তারা বলেন, শিশুটি পানিতে ভাসছিল, দেখতে পেয়ে পা ধরে ওঠাই। পরে আশপাশের মহিলারা তাকে বাসায় নিয়ে রসুনের তেল মাখায়। পরে যখন তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল, দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভর্তি করাই।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির বাসা মিরপুরে কমার্স কলেজের কাছে ঝিলপাড় বস্তির বিপরীত পাশে।

