মহান আল্লাহপাক ভালোবেসে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এজন্য মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায় তখনি আল্লাহ মানুষ জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন। সময়ে সময়ে আসমানি কিতাবও নাজিল করেছেন। যুগের ভয়াবহতা এবং চাহিদার নিরীখে নবীদের আগমন ছিলো যৌক্তিক এবং প্রাসঙ্গিক। যে যুগের মানুষের যত বেশি চারিত্রিক অবনতি হয়েছিল সে যুগে তত বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন নবীর আগমন ঘটেছিল। আইয়্যামে জাহেলিয়ত এমন এক সময় যখন পূর্বেকার সকল বর্বরতা হার মেনেছিল ঠিক সে সময়ই নবীদের নবী, খোদার হাবীব, হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.) এ ধরার বুকে আগমন করেছেন।
যিনি আঁধারে ডুবে যাওয়া মানবজাতিকে শিখিয়েছেন সিজদায় নত হয়ে একমাত্র রবের আনুগত্য, চারিত্রিক কোমলতা, সবর-শোকর, তাকওয়া-তাওয়াক্কুল, তাহারাত আর তওবার আলোকে জীবনযাপনের গুরুত্ব। নবীজি (দ.) এঁর পর মহান এ দায়িত্ব নবীর ওয়ারিশগণ তথা অলি আল্লাহগণ পালন করে আসছেন। কালের পরিক্রমায় আমরা পেয়েছি এমন এক মহান ব্যক্তিত্বকে যিনি মকামে গাউছিয়্যতে আসীন হয়েছেন, খলিফায়ে রাসূল (দ.) এঁর মর্যাদা পেয়েছেন।
মানবজাতির ক্রান্তিকালে যিনি গাউছিয়্যতের কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন- ”হে যুবক নামাজ পড়, রোজা রাখ, নবী করিম (দ.) এর উপর দরূদ পড় এবং মাতৃভূমি শান্ত কর”। এ মহান ডাকে সাড়া দিয়ে অগণিত যুবকের যে স্বতঃস্ফূর্ত সমাগম তা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। এসমস্ত যুবকেরা প্রতিদিন ১১১১ বার দরূদ শরীফ, মোরাকাবা, তাহাজ্জুদ, ফয়েজে কোরআন, জিকিরে জলির মাধ্যমে নবীজি (দ.) এঁর দেখানো পথে নিজেদের আত্মশুদ্ধির জন্য জীবনযাপন করছে। যে যুগে হারাম হালালের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া দুষ্কর সে যুগে এসে হালাল পথে থেকে যুবকদের মাঝে এবাদতের এমন আগ্রহ উদ্দীপনা যা নিঃসন্দেহে হযরত গাউছুল আজমের দৃশ্যমান দস্তগীরি, সর্বোপরি মহান আল্লাহপাকের অনুগ্রহ। ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) এর আদর্শে উজ্জীবিত যে চিরন্তন চেতনা হযরত গাউছুল আজমের তরিক্বতে রয়েছে তা একজন মানুষকে শুধু রবিউল আউয়ালে নয় বরং সারা বছর ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষেত্রে নবীজির সুন্নাহ মানার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করায়।
এছাড়া প্রতিদিন মুহাব্বতের নিয়তে হাজারবারের অধিক দরূদ শরীফ পড়ার মাধ্যমেও সত্যিকারের ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) এর উদযাপনের অনুশীলন একজন সাধারণ মানুষকে খালেছ আশেকে রাসূলে পরিণত করে। যে যত বেশি দরূদ পড়ে সে নবীজির তত কাছে। একজন তরিক্বতপন্থী প্রতিদিন ১১১১ বার করে জীবনে কতবার দরূদ শরীফ আদায়ের আমল করে যায় তা আল্লাহ ও রাসুল (দ.) ভালো জানেন। এ থেকেই বুঝা যায়, বিশ^জোড়া রাসূলনোমা এই মহান তরিক্বতের মধ্যেই রয়েছে মুক্তির চিরন্তন নিয়ামত, প্রশান্তির খোদায়ি বার্তা।
গতকাল (২৫ আগস্ট) মঙ্গলবার বাদে জোহর হতে চট্টগ্রাম কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত ৭৩তম পবিত্র জশ্নে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মাহফিলে মাননীয় মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব প্রধান মেহমানের বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের মহাসচিব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. জালাল আহমদ, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সবুর ও মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম রাব্বানি ফয়সাল।
মিলাদ-কিয়াম শেষে মাননীয় প্রধান মেহমান দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদি¦য়াল্লাহু আনহুর ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন।

