সবার জন্য শীতকাল আরামের নয়, লাইনটিআমাদের সবার কাছেই পরিচিত। অনেকের কাছে এই লাইনটি কিছুটা লোক দেখানো আবার কারো কাছে ভাষণ দেয়ার বুলি মাত্র।
খুব কম মানুষই এর মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পারে।বেশ কিছুদিন ধরেই শীতের প্রকোপ বেড়েই চলেছে।যানজট আর অট্টালিকায় ঘেরা ঢাকাতেই যদি তাপমাত্রা ১৬° তে নেমে আসে তাহলে উত্তরবঙ্গের মতো আরো নিম্নাঞ্চল এলাকা গুলোর অবস্থা ঠিক কতটা করুণ তা বিবেকবান মানুষেরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারার কথা।স্যুট, ব্লেজার,সোয়েটার বা চাদর এত কিছু পড়ার পরেও আমরা কিছুক্ষণের জন্য বাইরে বের হলেই শীতের ঠান্ডা হাওয়ায় কাঁপতে থাকি।
আর সেখানে পথশিশু,দুস্থ ঘরবাড়ি বিহীন মানুষগুলোর এই শীতের কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে রাস্তার ধারে হোক বা রেলস্টেশনে কিংবা ফুট ওভারব্রিজের উপর কি করুণ ভাবে তাদের দিন কাটে!আমাদের মত আরামপ্রিয়রা এসব ভাবার কথাও নয়।আমাদের সমাজে এমন অনেকেই আছেন যারা প্রতি শীতেই শীতের কাপড় কিনেন যদিও আলমারি ভর্তি শীতের কাপড়!কিন্ত তাতে কি!আমাদের দরকার নতুনত্ব।কম্বলের নিচে আরাম করে অট্টালিকার মধ্যে বসবাসরত মানুষদের এসব নিছক আর অহেতুক কথা মনে হলেও অন্তত একটা বারের জন্য এই খাঁচা থেকে বের হন।
একদিন রাতের শহরে হাটুন দেখবেন,কত ছেলে মেয়ে কনকনে শীতে নিজেকে প্লাস্টিক পেঁচিয়ে উষ্ম রাখার চেষ্টায় ব্যাস্ত,কেউবা একটি পাতলা ছেড়া কাঁথা দিয়ে কয়েকজন মিলে তাতে শীত নিবারণের নিদারুণ চেষ্টা করছে।কোনো মা হয়তো তার ছেলে-মেয়ে কে শীত থেকে বাঁচাতে সারা রাত ধরে আগুন জ্বালিয়ে পাহাড়া দিচ্ছে। পিঠাপুলির এই ঋতুতে শীতার্ত মানুষদের কাছে শীতের পিঠা বা খেজুর রসের স্বাদ নেয়ার চেয়ে বেঁচে থাকার লড়াইটা বেশি প্রয়োজনীয়। আমাদের কাছে ট্রেন্ডিং হলেও তাদের কাছে এই সময়টা জীবনযুদ্ধের মতো।
সরকার থেকে আসা সহায়তা পেতে হাজারো মানুষের পায়ের নিচে পিষ্ট হচ্ছে আহত হচ্ছে শুধুমাত্র শীত নিবারণের একটুকরো বস্ত্রের জন্য।
এক সরকারের পক্ষে কখনোই সবার এই দুর্দশা দূরীকরণ সম্ভব নয়।এর জন্য এগিয়ে আসতে হবে সমাজের আপনি আমি সবাইকে।যার যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে সবটা দিয়ে যদি একজন লোককেও শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচানো যায় তাতে ক্ষতি কি!!কথায় আছে না “ছোটো ছোট বালুকণা বিন্দু বিন্দু জল,গড়ে তোলে একসময় সাগর অতল।”
সবার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াসে যদি একজনের মুখেও হাসি ফোটে একটা মানুষের জীবন বাঁচে তার চেয়ে স্বর্গীয় আর কিছু আছে কি না জানা নেই।শীতার্ত এই দুস্থদের পাশে সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই।
লেখকঃ সালমা আক্তার

