ব্যক্তি, সমাজ, দেশের প্রয়োজনে প্রত্যেক ব্যক্তিকে ঘরের বাহিরে যেতে হয় কিন্তু সেই বাহিরের সড়ক যদি হয় মৃত্যু কূপ তাহলে তো আমাদের জীবনযাত্রার মান ও ব্যবস্থা নিয়ে অনেক কাজ করার বাকি আছে। আমার মতে, একজন পথচারীও সম্ভবত নিশ্চিয়তা দিতে পারবে না রাস্তায় বের হওয়ার পরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরতে পারবে। এবছর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসটির প্রতিপাদ্য হলঃ “আইন মেনে সড়কে চলি, নিরাপদে ঘরে ফিরি”।
একজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে আমার চিন্তায় বিষয় হল, নিরাপদে ঘরে ফিরা শুধু যেন শারিরীক না হয়, মানসিকভাবেও যেন সুস্থ ও নিরাপদও হয়। যেমনঃ একজন পথচারী যদি নিজেও যদি কোন শারিরীক দুর্ঘটনা শিকার না হলেও যদি উনার সামনে কোন ব্যক্তি বা গাড়ির মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটলে বা কেউ মারা গেলে সেই ঘটনা উক্ত পথচারীর জন্য কোন মানসিক সমস্যা বা রোগ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। উক্ত ঘটনার পরে সেই ব্যক্তির PTSD, Acute Stress Disorder, Panic Attack, Panic Disorder, Agoraphobia, Anxiety Disorder, Depression ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া সড়কে চুরি, ডাকাতি, ঝগড়াঝাটি, মারামারি ইত্যাদিও কারণেও মানসিক ও শারিরীক সমস্যা হতে পারে। সড়ক মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ৫৪ শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ৪০ বছর, কিন্তু এরাই ছিল দেশের বড় ধরনের সম্পদ। বুয়েট এর গবেষণা মতে গত তিন বছরে ১.০৯ লাখ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় হয়েছে। সড়কে নিরাপদ করতে হলে আমাদের পুরো সিস্টেমকে উন্নত করতে হবে। যেমন, ড্রাইভারদের শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষা নিয়মিত করতে হবে, তারা কিভাবে ঠান্ডা মস্তিষ্কে ড্রাইভিং করতে পারে সেই জাতীয় মানসিক ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা। যোগ্য ও দক্ষ ড্রাইভারদের লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা। বিআরটিএ মধ্যে যে ঘুষ দিয়ে বিভিন্ন কাজ করে নেওয়া ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং তাদের জবাবদিহিতা আওয়ায় রাখা৷ রাস্তা থেকে বিভিন্ন চাদা নেওয়া বন্ধ করা। গাড়িগুলো ফিটনেস নিয়মিত চেক করা এবং ওভারটেকিং, একটা গাড়ি অন্য গাড়ির সাথে ঘষাঘষি, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা ইত্যাদি অন্যায় করলে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা। রাস্তার ফুটপাত যেন সাধারণ জনগণ হাটতে পারে তারজন্য জায়গায় ঠিকমতো খালি রাখা এবং ছোট বড় গর্ত ঠিক করা যেন বৃষ্টি সময় মানুষ পড়ে দুর্ঘটনা না ঘটে। ফুটপাতের ছেলের বিভিন্ন কাজের ব্যবস্থা করা এতে তারা মাদক, চুরি ইত্যাদি অন্যায় থেকে দূরে থাকবে। কোন ব্যক্তি ও গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার কিভাবে তাড়াতাড়ি প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যবহার দূত নেওয়া যায় সেই ব্যাপারে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা। তাছাড়া গাড়িগুলোর অতিরিক্ত গতির প্রতিযোগিতা মানসিকা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। আমাদের সড়কগুলো যেন ঘর ও মসজিদ-মন্দির এর মত হয় নিরাপদ এমনই আশা রাখি।
লেখক: মো. মিরাজ হোসেন
সাইকোলজিস্ট, সাইকোথেরাপিস্ট
পরিচালকঃ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্রাফোলজি।

