amadermuktokantho
চট্টগ্রামরবিবার , ৬ নভেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বশেফমুবিপ্রবি শিক্ষকেরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন ; ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান উপাচার্যের

বশেফমুবিপ্রবি প্রতিনিধি:
নভেম্বর ৬, ২০২২ ১১:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেফমুবিপ্রবি) একাডেমীক- প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে গত বুধবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কর্মবিরতি শুরু করেন এবং ঐদিনই ১০ দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষকবৃন্দ। রবিবার (৬ই নভেম্বর) শিক্ষক আন্দোলনের ৩য় কর্ম দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের মধ্যে ৪ঘন্টা ব্যাপী আলোচনা হয়েছে।

একাডেমিক ভবনের হল রুমে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনায়ও সংকট নিরসনের মাধ্যমে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর বিষয়ে সমাধানে যেতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকমন্ডলী।

আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার মোহাম্মদ আবদুল মাননান বলেন-” দীর্ঘ চার ঘন্টা আলোচনা হয়েছে। শিক্ষকদের অধিকাংশই দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। কিছু দাবি রয়েছে সেগুলো মেনে নিতে বা বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে। আমরা সেই সময় চেয়েছি। কিছু দাবি দাওয়া জন্য কমিটি গঠন করা লাগবে, দু-চারটি অর্থ ও সিন্ডিকেট মিটিং যাবে, কিছু ইউজিসি এবং সরকারের অনুমোদন লাগবে । সেই সময় তাদের কাছে আমরা চেয়েছি এবং আগামীকাল থেকে ক্লাস ফিরে যেতে অনুরোধ করেছি।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন-” শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া অবশ্যই যৌক্তিক,তবে সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। যেগুলো সম্ভব আগামী সাতদিনের মধ্যে পূরণ করবো।তাদের বড় দাবি ছিলো পরীক্ষার পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দেওয়া, আমার উপাচার্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অর্থ কমিটি এবং সিন্ডিকেট মিটিং ডেকে পূরণ করে দিব।অন্যান্য দাবিগুলো খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শেষ করে দিব।এসময় তিনি সকল শিক্ষকদেরকে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার এবং চলমান পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।”

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. এএইচএম মাহবুবুর রহমান বলেন- “১০দফা দাবি গুলো যতক্ষণ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সমাধান না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষকমন্ডলী কেউ ক্লাসে যাবো না। উপাচার্য চাইলে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব। নতুবা শিক্ষকদের
এই কর্মবিরতি কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরো বলেন -” শিক্ষকরা যেসব প্রশাসনিক কার্যক্রমে যুক্ত আছেন তা থেকে বিরত থাকবেন, প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তো কাজ করবেন । শিক্ষকদের আন্দোলনের সাথে তাদের থাকা বা না থাকার বিষয়ে আমরা কিছু বলিনি।”

সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ আল মামুন সরকার বলেন-” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে কিন্তু ফলপ্রসূ কোন অগ্রগতি হয়নি। শুধু কমিটি নয়, আমরা গঠিত কমিটির ফলাফল দেখতে চাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের জন্য অব্যবস্থাপনা দূর করা দরকার । আমরা কোন ব্যক্তি বা প্রশাসন,কারো বিরুদ্ধে না। আমরা চাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ফিরে পাক‌‌, শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই ক্লাসে ফিরে যাক।” তিনি আরো বলেন -” শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রয়োজনে আমরা করোনাকালের ন্যায় অতিরিক্ত ক্লাস নেবো।

উল্লেখ,গতকাল বুধবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকেই ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।বিকেলে ১০দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন তাঁরা।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন- বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা, হলের ডাইনিং পরিচালনায় ভর্তুকি, পরিবহন পুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পৃথক পৃথক গাড়ী এবং এ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা,কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে মূল ও রেফারেন্স বইয়ের একাধিক মাস্টারকপিসহ উন্নতমানের দেশী-বিদেশী বই, জার্নাল সরবরাহ এবং লাইব্রেরির ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণ ও অটোমেসনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট আধুনিকীকরণ, স্মার্ট ক্লাসরুম ও আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এছাড়া সকল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল , গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে কোন শিক্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য আমন্ত্রিত হলে তার সামগ্রিক ব্যয় প্রদান, গেস্ট হাউজে রুম বরাদ্দ,আসবাবপত্র, দপ্তরের আধুনিকায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নাগরিক সেবাসমূহ ইন্টারনেট, শিক্ষাছুটি, “সিটিজেন চার্টার” ,ই নথি, ই-টেন্ডারিং চালু করারও দাবি জানান।

তাছাড়া “বঙ্গমাতা রিসার্চ ইনস্টিটিউট” নামে স্বতন্ত্র একটি ইনস্টিটিউট চালু, গবেষণা অনুদান প্রদান ,অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, আর্থিক ও অন্যান্য বিষয় ব্যবস্থাপনা ও বিধি সমূহের সর্বোত্তম চর্চার দাবি জানান।

বাৎসরিক বাজেট বরাদ্দের পর একটি বাজেট পরবর্তী সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সকল খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ এবং ব্যয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহেলিত করণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-ছুটি, পেনশন ও অন্যান্য নীতিমালা প্রণয়ন সংক্রান্ত কমিটিতে একাধিক শিক্ষক প্রতিনিধি অন্তর্ভূক্ত করে অতিসত্ত্বর নীতিমালা , অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় কর্মরতদের অভিজ্ঞতা গণনা করা, পদোন্নতি প্রাপ্যতার তারিখ থেকে আর্থিক সুবিধাদিসহ পদোন্নতি প্রদানেরও দাবি জানান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।