শিক্ষাক্ষেত্রে উদ্ভাবনী শক্তি ও মেধার অনন্য প্রদর্শনীতে চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছে ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS)’-এর আওতায় আয়োজিত ‘Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing Program’-এ প্রথম স্থান অধিকার করে বিদ্যালয়টি এখন জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রজেক্ট— ‘AI Automation and Green Technology’ বিচারকদের উচ্চ প্রশংসা অর্জন করে। এই অর্জনের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি ফটিকছড়ি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম জেলাকে জাতীয় পর্যায়ে রিপ্রেজেন্ট (প্রতিনিধিত্ব) করতে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের এই গৌরবময় অর্জনে উচ্ছ্বসিত ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক’ হিসেবে পুরস্কৃত মোহাম্মদ আলী মর্তুজা রিয়াজ বলেন, “জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করা আমাদের জন্য বড় একটি প্রাপ্তি। আমাদের প্রজেক্টটিতে আমরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে টেকসই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা কেবল তত্ত্ব নয়, বরং হাতে-কলমে কোডিং, ডেটা অ্যানালাইসিস এবং গ্রিন এনার্জির প্রয়োগ নিয়ে কাজ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, সুযোগ এবং সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের উদ্ভাবন উপহার দিতে সক্ষম। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, এই অর্জন আমাদের দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দীন এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় সব সময় নতুন উদ্ভাবন ও মানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমাদের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের এই কৃতিত্ব পুরো ফটিকছড়িবাসী তথা চট্টগ্রাম জেলার জন্য গর্বের। আমরা এখন জাতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি, আমরা জাতীয় পর্যায়েও সফল হয়ে আমাদের জেলার মুখ উজ্জ্বল করতে পারব।”
উপজেলা এবং জেলা পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া এই বিদ্যালয়টির সাফল্যে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকরা দারুণ আশাবাদী। বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশে এমন ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জাতীয় পর্যায়েও এই প্রতিষ্ঠান সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

