amadermuktokantho
চট্টগ্রামশনিবার , ৮ আগস্ট ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মারধর থেকে সাংবাদিক সংগঠনে হস্তক্ষেপ—একের পর এক অভিযোগে জবি ছাত্রদল নেতা সুমন সর্দার

জবি প্রতিনিধি:
আগস্ট ৮, ২০২৬ ১২:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সংগঠনে হস্তক্ষেপ, নিজ অনুসারীদের মাধ্যমে নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং সংবাদ সংগ্রহে থাকা এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় তাঁর নাম সামনে আসায় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক ও দৈনিক আজকালের খবর-এর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি কামরুজ্জামান কায়েস। তাঁর অভিযোগ, সুমন সর্দার তাঁকে ডেকে নেওয়ার পর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংকও নিয়ে যাওয়া হয়।

কামরুজ্জামান কায়েস দাবি করেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে, যা ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, এর আগেও সুমন সর্দারের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। সংগঠনটির সদস্যদের দাবি, কার্যকর কমিটি থাকা সত্ত্বেও নিজের অনুসারী এক ছাত্রদল নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে পৃথক কমিটি ঘোষণার চেষ্টা করা হয়।

তাঁদের অভিযোগ, সদস্যদের অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিক সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় একই ব্যক্তির নাম বারবার উঠে আসায় ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

পরপর দুটি ঘটনায় একই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতা একদিকে সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন এবং অন্যদিকে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকের ওপর হামলায় তাঁর নাম আসবে—এ ধরনের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুতর হুমকি।

এ বিষয়ে সুমন সর্দারকে প্রশ্ন করা হয়, “আপনি কেন এ কাজ করেছেন? একটি রাজনৈতিক দল কি এ ধরনের কাজ করতে পারে? কিংবা আপনাকে কি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ ধরনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে?”

জবাবে তিনি বলেন, “আসলে বিষয়টা তা নয়। আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, তোমরা আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডারবাজি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত জাহাঙ্গীরকে নিয়ে কীভাবে কী করা যায়, দেখো। তখন আমরা বিষয়টিতে যুক্ত হই। তবে ছাত্রদলের যে নেতা এই কমিটিতে আছে এবং অন্যরা আছে, তারা সবাই আমার রাজনৈতিক ছোট ভাই। আমি বললে তারা এখনই বসে যাবে।”

অভিযোগকারীদের দাবি, পরে তাঁকে আবার ফোন করলে তিনি ‘শিবির’ ও ‘ছাত্রলীগ’ বলে চালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, “আপনি কি হুমকি দিচ্ছেন?” উত্তরে তিনি বলেন, “না না, তেমন না। বাদ দাও। আমি বসব।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।